হিলি (দিনাজপুর): জ্বালানি তেলের সংকটে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহণের ট্রাকভাড়া একলাফে ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে পণ্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাজ কমে গিয়ে আয়হীন হয়ে পড়ছেন বন্দরের শ্রমিকরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারত থেকে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত গম, ভুট্টা, ময়দা ও জিরাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি হয়। তবে গত কয়েকদিনে গন্তব্যভেদে ট্রাকভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী ট্রাকের সংকট দেখা দিয়েছে এবং ভাড়াও বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, ‘আগে যে ট্রাক ঢাকা যেতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা নিত, এখন তা ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা চাচ্ছে। পরিবহণ খরচ এভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত পণ্যের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। দ্রুত পণ্য পাঠাতে না পারলে অনেক সময় তা পঁচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই সুযোগে ট্রাক মালিক ও চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
এদিকে, পরিবহণ সংকটের প্রভাব পড়েছে বন্দরের কুলি ও লোড-আনলোড শ্রমিকদের ওপরেও। শ্রমিকরা জানান, ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যেখানে প্রতিদিন শত শত ট্রাক লোড-আনলোড হতো, সেখানে এখন অনেক সময় কাজ ছাড়াই বসে থাকতে হচ্ছে।
ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ট্রাকচালক আরমান হোসেন বলেন, ‘পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে না। বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তাই খরচ পোষাতে আমরা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছি।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন ও পরিবহণ ভাড়া নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।