চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে মোকলেসুর রহমান (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহতও হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়। এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলাতদিয়াড় গ্রামের সরদারপাড়ায় নিজ বাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মোকলেসুর রহমান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের মধ্যে ছাদের টিন নামানোর সময় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঝড়ের তীব্রতায় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নূরনগর মোড়, ডিঙ্গেদহ ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় এবং চুয়াডাঙ্গা-দামুড়হুদা সড়কের ফকিরপাড়া, কোষাঘাটা ও দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের মোক্তারপুর ইটভাটার কাছে সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়ে। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাত ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত জেলায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল।’
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘আকস্মিক ঝড়ে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হয়েছে। জেলায় ৬০ হেক্টর বোরো ধান, ৪১ হেক্টর কলা, ১১ হেক্টর পেঁপে, ৫ হেক্টর আম, ১২ হেক্টর সব্জি এবং ৩ হেক্টর পানবরজের ক্ষতি হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ‘ঝড়ে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে রাস্তায় গাছপালা ভেঙে পড়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলে তা সরিয়ে ফেলে রাস্তায় চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘প্রবল ঝড়ে মনোহরপুর গ্রামের তিনটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী, ২ বান্ডিল ঢেউ টিন এবং প্রতি বান্ডিল ঢেউ টিনের অনুকূলে ৩ হাজার টাকা করে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’