কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ঝড়ো বাতাসে গাছপালা উপড়ে পড়ে সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোথাও ২৪ ঘণ্টা, আবার কোথাও টানা প্রায় ৪২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত তিনটার দিকে এ ঝড় হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের পর থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য নষ্ট হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎনির্ভর অনেক প্রতিষ্ঠানও।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), চকরিয়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ এবং কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চকরিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে বিদ্যুতের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, ঝড়ে তাদের অন্তত ১৫টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, হেলে পড়েছে আরও ২৯টি খুঁটি এবং পাঁচটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। অন্যদিকে, বিপিডিবির আওতাধীন চকরিয়া পৌরসভা, ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা, সাহারবিল, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা ও পূর্ব বড় ভেওলার বিভিন্ন এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলায় বিপিডিবির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার; যা চকরিয়া ও লামা উপজেলার কিছু অংশজুড়ে বিস্তৃত।
বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগের কথা জানিয়ে কাকারার বাসিন্দা সায়েদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ৪১ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। গাছের ডালপালা সরাতে দেরি করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মোবাইলফোনে চার্জ দেওয়ার সুযোগও নেই। এতে যোগাযোগ বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।’
ডুলাহাজারার বাসিন্দা এ. এম. হুমায়ুন আলম কবীর ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘প্রায় ৪২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে সব ধরনের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।’
ভরামুহুরী হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা দেবাশীষ শর্মা অভিযোগ করে বলেন, ‘ঝড়ের পর থেকে এখনও বিদ্যুৎ আসেনি। মাঝেমধ্যে এলেও কয়েক মিনিটের বেশি থাকে না। এটি বিপিডিবির বড় ধরনের ব্যর্থতা।’
টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে চকরিয়ার জনজীবন এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চকরিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. এমরান গণি নিশ্চিত করেছেন, ‘টানা দুইদিনের ঝড়ো বাতাসে বহু স্থানে গাছপালা বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়েছে। প্রায় ২০০ স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। আমাদের লাইনম্যান ও ঠিকাদারের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে।’
বিপিডিবির চকরিয়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা মেরামতের কাজ শুরু করেছি। ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।’
চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দু’টি প্রতিষ্ঠান মেরামতের কাজ শেষ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করবে।’