রাজবাড়ী: জেলা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। ওই শিশুদের হামের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সরেজমিনে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে ৬ শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে । ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৭ বছর বয়সী সিয়াম শেখ নামে এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
হাসপাতালে ভর্তি শিশু সিয়ামের কাকা মামুন শেখ বলেন, আমাদের বাড়ি পাবনা জেলার ঢালার চরে। পাবনা হাসপাতালে ৮ দিন ভর্তি ছিলাম। সেখান থেকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে চারদিন হলো এসেছি। আমার ভাতিজা সিয়ামকে এখন ফরিদপুরে নিয়ে যাবে। ওর অবস্থা খারাপ হওয়ায় ডাক্তাররা ফরিদপুর পাঠিয়ে দিচ্ছে।
রাজবাড়ী হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, যে ৬জন রোগী ভর্তি আছে তাদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এবং কাশি-সর্দির মতো উপসর্গ দেখা গেছে, যা হাম রোগের সাধারণ লক্ষণ। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান আরও বলেন, আমাদের হাসপাতালে জায়গা সংকটের কারণে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে শিশু ওয়ার্ডে একটি কর্ণারে আলাদা রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে । যেন অন্য শিশুরা হামে আক্রান্ত না হয়।
রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডা. এম এম মাসুদ বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ৬শিশু ভর্তি রয়েছে। অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। যারা ভর্তি রয়েছে তারা হামে আক্রান্ত কিনা তা দেখতে নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকাতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।
তিনি বলেন, কেউ যদি হামে আক্রান্ত হয়, সেই রুগী বা আক্রান্ত শিশুর আশে পাশে অন্য বাচ্চাদের যেতে দেওয়া যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে আক্রান্ত শিশুকে একদমই আলাদা রাখতে হবে। বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। জ্বর হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে। এসব নিয়ম মেনে চললে অধিকাংশ রোগী ভালো হয়ে যায়। তবে জ্বর অনেক হলে, বেশি কাঁশি হলে,শ্বাসকষ্ট হলে বাড়িতে না রেখে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।