কক্সবাজার: কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মারমেইড বিচ রিসোর্টের অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী অভিযানে রামু উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, রামু উপজেলার প্যাঁচারদ্বীপ এলাকার সৈকতে অনুমতি ছাড়াই আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হওয়ায় সেখানে যে কোনো স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
১৯৯৯ সালে নাজিরারটেক থেকে টেকনাফের বদরমোকাম পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতকে ইসিএ ঘোষণা করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
পরিবেশ অধিদফতর ও পরিবেশবাদী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, প্যাঁচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকত লাল কাঁকড়ার আবাসস্থল এবং সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তবে সেখানে নিয়মিত আলোকসজ্জা ও উচ্চ শব্দে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে কচ্ছপের আগমন কমে গেছে এবং লাল কাঁকড়াও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে একাধিকবার এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মারমেইড কর্তৃপক্ষ ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় প্যাঁচারদ্বীপ এলাকায় তাদের দখলে থাকা জমি উচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাস্তবে অন্তত ১০ একর সরকারি জমি দখলে রয়েছে।
এদিকে, অভিযানে অংশ নেওয়া পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুসাইব ইবনে রহমান বলেন, ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় বালিয়াড়ি দখল করে নির্মিত মারমেইড বিচ রিসোর্টের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। তবে উপকূলীয় সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধ দখল রোধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।