Sunday 27 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মধ্যযুগীয় আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি: ব্রাসেলসের ঐতিহাসিক ভাস্কর্য শৈলী

ফারহানা নীলা
১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৬

ব্রাসেলসের হৃদপিণ্ড খ্যাত গ্র্যান্ড প্লেস চত্বরে দাঁড়ালে যে বিশাল গথিক ইমারতটি পর্যটকদের স্তম্ভিত করে দেয়, সেটি হলো এর টাউন হল। তবে কেবল দূর থেকে এর বিশালত্ব নয়, কাছে গিয়ে এর প্রতিটি পাথরের খাঁজে তাকালে দেখা যায় এক জাদুকরী শিল্পকর্ম। সূক্ষ্ম ভাস্কর্যগুলো মূলত সেই মধ্যযুগীয় কারুশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।

পাথরের খোদাইয়ে জীবন্ত চরিত্র

টাউন হলের দেওয়ালে এবং প্রবেশদ্বারের দুপাশে শত শত পাথরের মূর্তি রয়েছে। সেখানে মধ্যযুগীয় ঢঙে লম্বা পোশাক পরা সাধু বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি খোদাই করা। এই ভাস্কর্যগুলো মূলত ব্রাসেলসের বিভিন্ন অভিজাত বংশের প্রতীক, স্থানীয় সাধু-সন্ন্যাসী এবং সেই সময়কার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের (Guilds) নেতাদের প্রতিনিধিত্ব করে। এগুলো মূলত চুনাপাথর বা ‘স্যান্ডস্টোন’ দিয়ে তৈরি। প্রতিটি মূর্তির হাতে কোনো না কোনো প্রতীকী বস্তু রয়েছে—যেমন কোনো বই, ধর্মীয় চিহ্ন বা তলোয়ার, যা সেই ব্যক্তির সামাজিক অবস্থানকে ফুটিয়ে তোলে।

বিজ্ঞাপন

কেন এই স্থাপত্য এত রহস্যময়?

এই ভাস্কর্যটির ডানদিকে একটি বড় খিলানযুক্ত পথ রয়েছে। এটি মূলত টাউন হলের মূল আঙিনায় (Courtyard) প্রবেশের রাস্তা। এই খিলানটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, টাওয়ারের দুপাশের নকশা এক নয়। এই অপ্রতিসমতা বা ‘এসিমেট্রি’ (Asymmetry) ব্রাসেলস টাউন হলের এক বড় বৈশিষ্ট্য। অনেক পর্যটকই এই রহস্যময় অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পেতে ভবনের নিচে লম্বা সময় কাটান।

ইতিহাসের ঘাত-প্রতিঘাত

১৬৯৫ সালে যখন ফরাসি বাহিনীর গোলাবর্ষণে ব্রাসেলসের প্রায় সব ভবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তখন এই টাউন হলের কাঠামোটি অবিশ্বাস্যভাবে টিকে যায়। তবে ওপরের অনেক পাথরের নকশা তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে উনবিংশ শতাব্দীতে এক বিশাল সংস্কার কাজের মাধ্যমে এই মূর্তিগুলোকে পুনরায় স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এই দেওয়ালগুলো কেবল পাথরের টুকরো নয়, বরং বেলজিয়ামের টিকে থাকার লড়াইয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক।

গথিক স্থাপত্যের ছোঁয়া

ভাস্কর্যটির ওপরের অংশে রয়েছে সূক্ষ্ম নকশা করা কার্নিশ বা ছাদ (Canopies), যা মূর্তিদের ওপর একটি রাজকীয় আচ্ছাদন তৈরি করেছে। এই ‘ব্রাবান্টাইন গথিক’ শৈলী মূলত লম্বালম্বি নকশাকে প্রাধান্য দেয়, যাতে পুরো ভবনটিকে অনেক বেশি আকাশমুখী এবং রাজকীয় মনে হয়।

একটি শৈল্পিক মুহূর্ত

ঐতিহাসিক এই দেওয়াল এবং আধুনিক মানুষের উপস্থিতির এই ছবির ফ্রেমটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কয়েকশ বছর পেরিয়ে গেলেও শিল্পের আবেদন কখনো পুরনো হয় না। এই দেওয়ালগুলোর সামনে দাঁড়ালে পর্যটকরা যেন নিমেষেই মধ্যযুগীয় ইউরোপের কোনো এক কালখণ্ডে ফিরে যান।

প্রচ্ছদের ছবি: সংগৃহীত
ভেতরের ছবি: লেখক

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

চৌগাছায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৬

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন