Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পতিত জমিতে সোনালি সম্ভাবনা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে চিনাবাদাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

মো. আশরাফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:০৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জেলার সদর উপজেলার চরাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে চিনাবাদাম চাষ। এক সময়ের অনাবাদি ও পতিত জমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে, আর সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের ভাগ্য।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)’-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জেও কৃষির আধুনিকীকরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কাজ চলছে। এর ইতিবাচক প্রভাব সদর উপজেলার ৮টি চরবেষ্টিত ইউনিয়নে এরইমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

সদর উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়ন আলাতলি ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের রাণীনগর ও হাকিমপুর ব্লকে জেগে উঠা চরে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে চিনাবাদামের আবাদ করা হয়েছে। বিস্তীর্ণ চরজমি এখন সবুজে আচ্ছাদিত। কৃষকদের চোখে মুখে নতুন স্বপ্ন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছিল। সফলতা পাওয়ায় এবার তা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমানের সহযোগিতায় ২৪ জন কৃষককে নিয়ে প্রদর্শনী প্লটও স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর সহায়তায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পরিদর্শনের ফলে এ বছর প্রায় ৫০০ বিঘা পতিত জমিতে নতুন করে চিনাবাদাম চাষ শুরু হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মণ চিনাবাদাম উৎপাদন হতে পারে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এতে শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়বে না, চরাঞ্চলের কৃষকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

রাণীনগর চরের কৃষক মিলন আলী জানান, গত বছর ১৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে লাভবান হন তিনি। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ৩০ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কৃষি বিভাগের সহযোগিতা না থাকলে আমরা এত বড় আকারে চাষ করতে পারতাম না। এখন ভালো ফলনের আশা করছি।’

তার মতো ফরিদ উদ্দীন, সেন্টু, শামীমসহ অন্যান্য আরো চরের কৃষকেরা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চিনা বাদামের চাষ করে ভাগ্য উন্নয়নের আশায় স্বপ্ন বুনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, চরাঞ্চলের পতিত জমি কাজে লাগিয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শস্য নিবিড়তা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। চিনাবাদাম চাষ ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে এই সাফল্য আরও বিস্তৃত করা হবে।