Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

বরিশালে স্কুলছাত্র নিখোঁজ: ৪ দিন পর কক্সবাজারে উদ্ধার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ মে ২০২৬ ১৯:৩৩

কক্সবাজার: বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া কালেক্টরেট স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সৌরভ দাস শান (১৩) চারদিন পর কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) ভোর রাত ৪টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাহ থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কিশোর সৌরভ ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত স্কোপোলামিন জাতীয় মাদকের কবলে পড়ে অপহরণের শিকার হয়েছিল।

তার পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মায়ের জন্য খিচুড়ি কিনতে বাসা থেকে বের হয় সৌরভ। এ সময় সে একটি দোকানে গিয়ে বিকাশ থেকে আট হাজার টাকা উত্তোলন করে। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। একই রাতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি একটি স্কুল মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়। যা এক অপরিচিত ব্যক্তি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বরিশালের কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার ঈদগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুনিল বড়ুয়া জানিয়েছেন, রাত ৩টার দিকে ঈদগাহ এলাকায় ক্লান্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় দোকানিদের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার কথাবার্তায় অসংগতি পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তিনি নিশ্চিত করেছেন, উদ্ধারকালে সৌরভের পকেটে দূরপাল্লার বাসের দুটি টিকিট এবং মাত্র ১০ টাকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে সে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে এবং কথা বলতে পারছে।

এসআই সুনিল বড়ুয়ার দাবি, এক অপরিচিত ব্যক্তি তার কাছে ঠিকানা জানতে চেয়েছিল। এরপর তার আর কিছু মনে নেই বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৌরভ জানিয়েছে। এ পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা, এটি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রেরই কাজ হতে পারে।

এদিকে ছেলের ফিরে আসার খবরে দীর্ঘ চারদিনের উৎকণ্ঠার অবসান হয়েছে পরিবারের। সৌরভের মা মিতু রাণী দাস জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তার ছেলে টাকা তুলে খিচুড়ির অর্ডার দিয়ে দোকানের সামনে অপেক্ষা করছিল। তখন এক ব্যক্তি তার কাছে ঠিকানা জানতে চাইলে এরপরই সে জ্ঞান হারায়।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া কিশোরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার।