কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার মিরপুরে ইয়াবাসহ গ্রেফতার এক মাদক ব্যবসায়ীকে থানায় ছাড়াতে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ সমর্থককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটানা ঘটে। রোববার (১০ মে) সকাল ১১টায় হেফাজতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের এনামুল হক, সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম। এর মধ্যে সাইদুল ইসলাম বিএনপি সমর্থক এবং অন্যরা জামায়াত সমর্থক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে নওদা আজমপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে ৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নেওয়া হলে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক থানায় এসে তাকে ছাড়িয়ে নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভোড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যপক আব্দুল গফুর বলেন, জামায়াতের কোন নেতাকর্মী ইয়াবা ব্যবসায়ীকে থানায় ছাড়াতে যাবে এটা সম্ভব নয়। হয়তোবা তারা জামায়াতে ভোট দিয়েছিলো। এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
অন্যদিকে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম বলেন, হেফাজতে নেওয়া চারজন জামায়াতের সমর্থক। তবে প্রতিবেশী রবিউল ইসলামকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে, বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানতে তারা থানায় গিয়েছিলেন। জামায়াত ইসলামী কোনো অপরাধীকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবির করবে, এমন প্রশ্নই আসে না। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের কোনো আপস নেই।
এদিকে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান দাবি করেন, হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তি বিএনপি করেনা। তিনি বিএনপির কোন পোষ্টে আছেন এটা পুলিশকে দেখাতে বলেন।