Tuesday 28 Apr 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

শুরু হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ফুয়েল লোডিং

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১৪

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ছবি।

পাবনা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পথে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায়ও যুক্ত হলো বাংলাদেশর নাম।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় এক অনাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। এর আগে, প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা কিছুদিন যাবত এই পারমাণবিক প্রকল্পে কাজ করছিলাম। তিনি বলেছিলেন, সেফটি সিকিউরিটি রেখে যতদ্রুত সম্ভব এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কমিশনিং করার জন্য। আজকে সেইদিন আমরা পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ থেকে আজকে আমাদের জ্বালানি লোডিং শুরু হলো। এটি একটি গৌরবজ্জল অধ্যায়। বহু বছরের পরিকল্পনা, গবেষণা, দক্ষতা, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সফল পরিণতি দেখতে পাচ্ছি আজ। রাষ্ট্র যখন দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করে, তখন এমন অর্জন সম্ভব হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে শিল্পায়ন, আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অপরিহার্য। এই বাস্তবতায় পারমাণবিক শক্তি আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় অন্যতম ভিত্তি। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করবে।’

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় ও তাৎপর্যময় দিন। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ফুয়েল লোডিং কেবলমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি নয়, একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় সক্ষতমতার বাস্তব প্রতিফলন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক।’

রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশকে যেভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেভাবে পাশে থাকব আমরা। বাংলাদেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই নিরাপত্তা নিয়ে; এ প্রকল্পে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে। নিরাপদ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকেই সরবরাহ করা হবে বিদ্যুৎ। এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যতে যে কোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে রোসাটম।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগবে ৪০-৪৫ দিন। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

এর আগে, গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে, যার মাধ্যমে জ্বালানি লোডিংয়ের পথ প্রশস্ত হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ লাইসেন্স অর্জন করেছেন। তাদের সঙ্গে রাশিয়ার লাইসেন্সধারী অপারেটরদের সমন্বয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালিত হবে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রতি মাসে ১০-১৫ শতাংশ করে উৎপাদন বাড়ানো হবে। ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পর পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে ৮-১০ মাস। এ বছরের শেষের দিকে দ্বিতীয় ইউনিটেও ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। দুইটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে পূর্ণ উৎপাদনে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে সহায়ক হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর