গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন পরিণত হয়েছে ধান ও খড় শুকানোর মাঠে। সড়কের মাঝখানে ইট, গাছের গুঁড়ি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে সারিবদ্ধভাবে শুকানো হচ্ছে বোরো মৌসুমের ধান ও খড়। এতে যান চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি, বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
গত ১০ মে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সড়কে শুকাতে দেওয়া খড়ে পিছলে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক এরশাদ আলীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে সড়কে ধান-খড় শুকানোর ভয়াবহ ঝুঁকি।
জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে চোখে পড়ে একের পর এক পাতা ধান ও খড়ের সারি। অনেক স্থানে সড়কের প্রায় পুরোটা জুড়েই শুকানো হচ্ছে এসব ফসল। ফলে চালকদের একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সড়কের প্রকৃত অবস্থান—যেমন স্পিড ব্রেকার বা গর্ত বুঝতে না পারায় দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাচ্ছে।
জেলার সচেতন মহল বলছে, সড়ক শুধু যান চলাচলের জন্য, এটি কৃষিকাজের মাঠ নয়—এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে সবাইকে। কৃষকের প্রয়োজন যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি সড়কের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই প্রয়োজন বাস্তবমুখী সমাধান ও সামাজিক সচেতনতা। নইলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে হাজারও মানুষকে।

অটো চালক মাহতাব মিয়া জানান, সড়কে যখন ধান বা খড় শুকানো হয়, তখন বোঝা যায় না কোথায় স্পিড ব্রেকার, কোথায় গর্ত। অনেক সময় হঠাৎ গর্তে পড়ে বাসের যাত্রী আহত হন। মাঝে মাঝে তো গাড়ির সামনের অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এসব ঝুঁকি নিয়েই আমাদের চলাচল করতে হয় ।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ট্রাকচালক সাজু ইসলাম। তিনি বলেন, রাস্তার দু’পাশেই গাছের গুঁড়ি বা ইট বিছিয়ে ধান ও খড় শুকানো হয়। অনেক সময় বিপরীত পাশের গাড়িকে সাইড দিতে গেলেও পারা যায় না। সাইড দিতে গিয়ে দেখা যায় পাশে গাছের গুঁড়ি না হয় ইট আছে। ফলে সাইড দিতে না পারায় দুর্ঘটনাও ঘটে যায়।
মোটরসাইকেল চালক সৌরভ প্রধান জানান, একদিন ধান শুকানোর জায়গায় বাইক স্লিপ করে পড়ে গিয়েছিলাম। ভাগ্য ভালো তখন গতি কম ছিল। কিন্তু বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। এমন ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছি।
সদর উপজেলার কৃষক আক্কাস মিয়া বলেন, আমাদের মাঠে পানি জমে থাকে। ধান কেটে আনার পর শুকানোর জায়গা পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তার উপরেই শুকাতে হয়। আমরা সচেতন, তবে উপায় না থাকলে তো কিছু করার থাকে না।
একই মত দেন কৃষক হাবিবুর রহমান। তার ভাষায়, আমরা চাই না কারও অসুবিধা হোক। কিন্তু চারদিকে বাড়িঘর, ছোট গলি—তাই রাস্তা ছাড়া আমাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। তাই বাধ্য হয়েই সড়কে ধান ও খড় শুকাতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে ধান খড় শুকানো বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীঘ্রই সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালানো হবে। এর পরও কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’