Sunday 17 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফরিদপুরে জোড়া খুন
বিয়ের চাপ দেওয়ায় মা-মেয়েকে হত্যার পর মাটিচাপা দেন পরকীয়া প্রেমিক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ মে ২০২৬ ১৯:০৯ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৯:১৭

হত্যাকারী উজ্জ্বল।

ফরিদপুর: জেলায় পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় শ্বাসরোধ করে জাহানারাকে হত্যার পর সঙ্গে থাকা শিশু কন্যা সামিয়াকেও একইভাবে হত্যা করে উজ্জ্বল। প্রমাণ লোপাট করতে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয় মা ও মেয়ের মরদেহ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক উজ্জ্বলকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার উজ্জ্বল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা খাসেরকোল গ্রামের মৃত শাহজাহান খানের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম জানান, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী। তিনি রাজধানীর আমিনবাজারের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে উজ্জ্বলের সঙ্গে তার পরিচয় ও পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ৩ বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কের একপর্যায়ে জাহানারা বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে জানা গেছে, গত ৪ মে মোবাইল ফোনে জাহানারাকে জামতলা বাজারে ডেকে নেয় উজ্জ্বল। ওইদিন বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল শেষে জাহানারা তার তিন বছর বয়সী মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে সেখানে যান। পরে উজ্জ্বল তাদের ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়।

 রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল জাহানারার বুকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় পাশে থাকা শিশু সামিয়া কান্নাকাটি শুরু করলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে উজ্জ্বল।

পরে ঘটনাস্থলের পাশের নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে পুকুরপাড়ে গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটিচাপা দেয় সে। মরদেহের ওপর কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত জাহানারার বাবা লালন মোল্লা কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আবুল বাসার মোল্লা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ১৬ মে গোয়ালন্দ এলাকা থেকে উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে উজ্জ্বল হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: মা-শিশুর মরদেহ নিয়ে কুকুরের টানাটানি, দুর্গন্ধ পেয়ে উদ্ধার

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহত জাহানারার বাবা লালন মোল্লা তার মেয়ে ও নাতনির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ফরিদপুর সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ কুকুর টানাটানি করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহানারা ও তার শিশু কন্যা সামিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর