যশোর: কুরবানির ঈদ ঘিরে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটের চামড়া ব্যবসায়ীদের। ট্যানারি মালিকদের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া জমে হয়েছে শত কোটি টাকা। তারসঙ্গে যোগ হয়েছে চামড়ার প্রধান অনুষঙ্গ লবণের দাম। সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম নিয়েও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এমন পরিস্থিতিতে ঈদের আগে সীমিত সুদে ব্যাংক লোন ও লবণের দাম কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের।
ট্যানারি মালিকদের কাছে জমা থাকা বকেয়া পাওনার কোনো কূলকিনারা হয়নি, মিলছে না ব্যাংক ঋণ। বাধ্য হয়ে ভরসা করতে হচ্ছে চড়া সুদে মহাজন কিংবা এনজিও ঋণের ওপর। তারপরও সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে ন্যায্য দাম মিলবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। এত সব হিসাব মেলাতে গিয়ে এবার ঈদের আগেই যশোরের রাজারহাটেরর ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা নেমেছে।
সারাবছরই এ হাটে চামড়া বেচাকেনা হলেও কুরবানির ঈদের মৌসুমি বাজার ধরতে অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু প্রতি বছর সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মনিটরিংয়ের অভাবে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়। ফলে এসব নিয়ে শঙ্কিত ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

রাজারহাটের মোকামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পশুর চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম অনুষঙ্গ লবণ। এরইমধ্যে প্রতি বস্তায় লবণের দাম ১০০ টাকা বেড়েছে। লবণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চামড়া সংরক্ষণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে বিনামূল্যে লবণ দেওয়া হলেও সেটি ব্যবসায়ীরা পান না। সেটা দেওয়া হয় মাদরাসা-এতিমখানায়। আর তারা বিনামূল্যের লবণ সংগৃহীত চামড়ায় না লাগিয়ে আলাদা করে বিক্রি করে দেয়। এজন্য ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে লবণ দিলে উপকার হতো।’
আরেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনন্দ দাস বলেন, ‘আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে এনজিও, মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পুঁজি জোগাড় করি। সেই পুঁজির টাকায় চামড়া কিনে ন্যায্য দাম বঞ্চিত হই। কোরবানিতে কখনই সরকার নির্ধারিত দামে বেচাকেনা করতে পারি না।’
রাজারহাট মোকামের আড়তদার আবদুল মালেক বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের কাছে এখানকার আড়তদারদের অন্তত ৩০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। দীর্ঘদিনেও বকেয়া আদায় না হওয়ায় পুঁজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ঈদের আগে বকেয়া আদায় না হলে পুঁজি সংকট বাড়বে।’

একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার প্রতিবছর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেন। কিন্তু সেই দামে সব চামড়া বেচাকেনা হয় না। চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর থাকতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের দেশের চামড়া চায়নায় রফতানি করা হয়। চায়না নির্ভর রফতানি থেকে বেরিয়ে ইউরোপের বাজার ধরতে হবে। তাহলে চামড়া শিল্প চাঙা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বাঁচবে। নতুন সরকার এ বিষয়ে বিবেচনা করবেন।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘চামড়ার বাজার মনিটরিং ও পাচার রোধে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’