সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকায় একটি গোয়াল থেকে ৬টি গরু চুরি হয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদিপশু চুরির ঘটনায় স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মো. হাসান শেখের গোয়াল থেকে গরুগুলো চুরি হয়।
এতে ওই গরুর মালিকের প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছিল। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও গরুগুলো গোয়ালে বেঁধে রেখে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো একসময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র বাড়ির বাইরে থেকে ঘরের ছিটকানি লাগিয়ে দেন, যাতে পরিবারের সদস্যরা বের হতে না পারেন। পরে তারা গরু নিয়ে পালিয়ে যান।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা খালি গোয়াল দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজনকে জানানো হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
গরুর মালিক মো. হাসান শেখ জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে বিক্রির জন্য গরুগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল। একসঙ্গে এতগুলো গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
হাসান শেখের স্ত্রী চম্পা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ডাকাতরা আমাদের ঘরের ছিটকানি বাইরে থেকে লাগিয়ে রেখে গরুগুলো নিয়ে গেছে। আমরা কিছুই টের পাইনি। এখন আমরা পথে বসে গেছি। অনেক কষ্ট করে গরুগুলো লালন-পালন করেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই গরুগুলো বিক্রি করেই সংসারের ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের খরচ চালানোর পরিকল্পনা ছিল। রাতের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত গরুগুলো উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, পাইকপাড়া এলাকায় গরু চুরির একটি ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গরুগুলো উদ্ধারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
গরু চুরি রুখতে এলাকাবাসী রাতের নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।