শরীয়তপুর: ভেদরগঞ্জে রাজলক্ষী পূরবী (২৫) নামের এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় রাজলক্ষী পূরবীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার স্বামী। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত। এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবী স্বজন ও স্থানীয়দের।
বুধবার (২০ মে) সকালে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাও ইউনিয়নের সিংগাচুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকায় কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে রাজলক্ষী পূরবীর বিয়ে হয় ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাও ইউনিয়নের সিংগাচুড়া এলাকার রামচন্দ হালদারের ছেলে চঞ্চল হালদারের। চঞ্চল কিছুটা কাজে উদাসীন হওয়ায় মাঝেমধ্যেই শশুরের কাছে থেকে টাকা ধার এনে তা আর পরিশোধ করতেন না। এমনকি বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য মাঝেমধ্যে স্ত্রী পূরবীকে নির্যাতন চালাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবশেষে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) বিদেশ যাওয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা দাবী করে টাকা আনতে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পাঠান চঞ্চল। তবে দরিদ্র বাবা সেই টাকা দিতে না পারলে বাড়িতে চলে আসে পূরবী।
এরপর আজ (বুধবার) সকালে ঘরের আড়ার সাথে পূরবীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পূরবীর বাবা সুনীল মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে আমাকে ফোন করে বলতো যে, তাকে তার স্বামী টাকার জন্য মারধর করে। আমি জামাইকে টাকা দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমি চাষ করে খাই, এতো টাকা কোথায় পাবো? টাকা দিইনি বলে আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলেছে। আমি দোষীর বিচার চাই।’
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসান বলেন, ‘বুধবার সকালে রাজলক্ষ্মী পূরবী নামের এক মেয়েকে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানায়, সে দড়ি দিয়ে ফাঁস নিয়েছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি।’
ভেদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল বাসার বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করছি। এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিবারের কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’