চট্টগ্রাম: জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আবুল হাশেম বক্করের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসব।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে অনুশীলন মাঠে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আবুল হাশেম বক্কর।
বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা মো. শফিউল আলম, শহীদ তানভীরের ভাই খোরশেদ আলম ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। বক্তব্য রাখেন সিজেকেএস ক্লাব সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
মেয়র বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রীড়া বান্ধব সরকার। চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তুলবো। যাতে কিশোর-যুবকেরা ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়া কার্ডের প্রবর্তন করেছেন। ক্রীড়া হলে পেশা পরিবার পাবে ভরসা। ফলে কোনো ভালো খেলোয়াড়কে অসময়ে ঝরে পড়তে হবে না। চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন খুবই সমৃদ্ধ। আমরা সকলে মিলে কাজ করলে সেটি আরও এগিয়ে যাবে।’
আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে পড়া চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে আমরা আবার জাগিয়ে তুলতে চাই। যাদের আত্মত্যাগে আমরা গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি সেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এই ক্রীড়া উৎসব। এক সময় সামার স্টার দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ভালো ভালো ক্রিকেটার উঠে এসেছে। যারা পরবর্তীতে জাতীয় দলে নেতৃত্ব দিয়েছে। একইভাবে এই উৎসবের মাধ্যমে প্রত্যেকটি ইভেন্ট থেকে ভালো ও দক্ষ খেলোয়াড় উঠে আসবে। এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএস ক্লাব সমিতির সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম, সিজেকেএস কাউন্সিলর আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল, প্রবীণ ঘোষ, আকতারুজ্জামান, নাসির মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, জিএম হাসান, সরোয়ার মনি, কাজী জসীম উদ্দীন, আলী হাসান রাজু, ইয়াছিন আরাফাত পাবলু, এনামুল হক, সায়লা আবেদীন রীমা, সাইফুল আলম খান, আজাদুর রহমান, মো. হারুন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য বিপ্লব দে পার্থ, মনোয়ারা বেগম মনি, ফাতেমা বাদশা, আফরোজা খানম, দিদারুল আলম চৌধুরী, আজম খান, মোশাররফ হোসেন লিটন, নুর জাহেদ বাবলু প্রমুখ।
কাবাডি (পুরুষ) প্রথম খেলায় এস এ ফ্যামিলি স্পোর্টস ক্লাব কর্ণফুলী ক্লাবকে পরাজিত করে। অন্যদিকে ভলিবল (মহিলা) সিটি করপোরেশন ৩-০ সেটে হালিশহর লাকী ক্লাবকে পরাজিত করে এবং গোসাইলডাঙ্গা যুবক গোষ্ঠী ২-১ সেটে কল্লোল সংঘ গ্রিনকে পরাজিত করে।
এবার চট্টগ্রাম জেলা থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্রিকেটে ১২টি, ফুটবলে ১০টি, ভলিবল (পুরুষ) ৮টি, ভলিবল (মহিলা) ৪টি, কাবাডি (পুরুষ) ৮টি, কাবাডি (মহিলা) ২টি, হ্যান্ডবল ৮টি ও ব্যাডমিন্টনে ১৬টি দল অংশগ্রহণ করেছে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার তালিকাভুক্ত ক্লাব।
ফুটবল ও ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন টিমকে ট্রফিসহ ১ লাখ টাকা, রানার্সআপকে ৫০ হাজার টাকা, কাবাডি, ভলিবল ও হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফিসহ ৫০ হাজার টাকা, রানার্সআপকে ৩০ হাজার টাকা এবং ব্যাডমিন্টনে দ্বৈত চ্যাম্পিয়নকে ৩০ হাজার, একক চ্যাম্পিয়নকে ২০ হাজার টাকা, দ্বৈত রানার্সআপকে ২০ হাজার টাকা ও একক রানার্সআপকে ১০ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেওয়া হবে।
পুরো আয়োজনে স্পন্সর করছে বিএসআরএম, পিএইচপি ফ্যামিলি, কাদেরিয়া প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, এমইবি গ্রুপ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।