রাজবাড়ী: বাড়ির আঙিনায় বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে বাহারি রঙের বিদেশি আঙুর। সবুজ, হলুদ, লাল রঙের থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আঙুর পথচারীদের নজর কাড়ছে। এ নিয়ে রঙিন স্বপ্ন বুনছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর বাগমারা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সরোয়ার হোসেন বিশ্বাস ওরফে সরোয়ার বাবু।
সরোয়ার পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির আঙিনায় দুই শতক জায়গায় আঙুর চাষ করে সফল হন। ইউটিউব দেখে তিনি আঙুর চাষ করছেন। চার বছর আগে ইউটিউব ও কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দেখে বাড়ির উঠানে ২ শতাংশ জমিতে দেশ বিদেশ থেকে চারা সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি আঙুরের চারা রোপণ করেন সরোয়ার। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ছাঁটাই ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সফলতা পান তিনি। প্রথম বছর পরীক্ষামূলক একটি গাছ থেকেই পেয়েছেন প্রায় দেড় মণ মিষ্টি আঙুর। এরপরের বছর থেকেই তার আঙুরের ফলন বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বাহারি রঙের পাকা আঙুর। এখন উদ্যোক্তা সরোয়ার হোসেন বিশ্বাস তার সংগ্রহে থাকা ৬টি জাতের পাশাপাশি ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে আনা ১২টি জাত সংগ্রহ করে নিজের ৫ বিঘা জমি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের জন্য প্রস্তুত করছেন।
কৃষি উদ্যোক্তা সরোয়ার বিশ্বাস বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আঙুরের প্রতি তার ঝোঁক ছিল। আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য না জেনে ইউটিউব দেখে শখের বসে আঙুর চাষে আগ্রহ বাড়ে। ১৯৯৪ সালে বিসিকের একটি নার্সারি থেকে চারা এনে বাড়িতে রোপণ করেছিলেন। তবে সেই আঙুর ছিল খুবই টক। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মিষ্টি জাতের আঙুর চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। রাশিয়ান, ইতালিসহ অন্যান্য দেশ থেকে আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে ভালো জাত সংগ্রহ করি। সংগ্রহ করা ওই চারাগুলো দিয়ে বাড়ির আঙিনায় ২ শতাংশ জমির ওপর ৪ বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ শুরু করে বাণিজ্যিক সফলতা অর্জন করেছি। আমি তিন বছর ধরে আঙুর হারভেস্ট করছি এবং বিক্রি করছি। চলতি বছরে আমি তিন মণের বেশি আঙুর বিক্রি করেছি। আশা করছি আরও ২ মণের বেশি বিক্রি করতে পারব। দর্শনার্থীরা আমার বাগানে এসে আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার আঙুর খুব মিষ্টি ও মানসম্পন্ন। এসব আঙুরের যে আকার, আকৃতি ও কালার তা বাংলাদেশে আমদানি হয় না। এই আঙুর বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যে ভাবে হওয়া শুরু করেছে অবশ্যই বাংলাদেশ বিদেশ থেকে অর্থ দিয়ে আঙুর কিনে আনবে না আমরা আশা করছি। আমি অনুরোধ করবো যার যেটুকু জায়গা আছে সেখানেই আঙুরের চারা রোপণ করেন, যাতে সারা বাংলাদেশেই এই আঙুর চাষটা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আমার সংগ্রহে ১৩টি জাত আছে, আমি এরইমধ্যে ৫ বিঘা জমির ওপর বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করে দিয়েছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কম পরিশ্রম ও কম খরচে লাভজনক হওয়ায় আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে। আঙুর চাষে বাড়তি কোনো খরচ নেই। জৈব সার প্রয়োগের পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যায় একটি গাছে ৪০ থেকে ৫০ বছর ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া বছরে একটি গাছে ৩ বার ফল আসে। প্রতিটি গাছে দেড় থেকে ২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, আঙুর চাষ করে কৃষি উদ্যোক্তা সরোয়ার বিশ্বাস সফলতা অর্জন করেছে। রাজবাড়ীর আবহাওয়া, জলবায়ু এবং মাটির যে গুণাগুন তাতে দেখা যাচ্ছে যে আঙুর চাষে কৃষক বা উদ্যোক্তা সফলতা লাভ করবে।