সিলেট: ৭০০ বছরের ইতিহাসে হযরত শাহজালাল মাজারের সিলগালা দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে। দানের দুটি ডেগ ও জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে গণনায় চার দিনের ব্যবধানে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা সোনা পাওয়া গেছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজার প্রাঙ্গণে সিলেট জেলা প্রশাসক ডিসি সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে টাকা গণনা শুরু হয়। তবে গণনা শুরুর কিছুক্ষণ পরই সারওয়ার আলম মাজার ত্যাগ করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, দানবাক্সের টাকা গুনতে প্রায় ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক গণনার কাজ করছেন। এছাড়া দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও এতে সহযোগিতা করছেন।
তদারকির কাজে যুক্ত একজন জানান, জোহরের নামাজের পর পর গণনার কাজ শুরু হয়। মেশিন দিয়ে টাকা গোনা হয়।
দানবাক্সের মধ্যে পাওয়া যায়, স্বর্ণ, রিয়াল, ডলার ও পাউন্ডও। স্বর্ণের চেইন, আংটি থেকে শুরু করে ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো রয়েছে দানবাক্সে। এর বেশিরভাগই ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোট।
সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার (২২ জুন) তড়িঘড়ি করে তিনি দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ শুরু করেন। যদিও এর আগে জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, ১৫ দিন পর দানবাক্সের টাকা গণনা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়েছে। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার কথা বলে ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা।
তবে, এ নিয়ে মাজার সিন্ডিকেটের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিলেও পুরো সিলেটবাসী ডিসির এমন সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানান।
কিন্তু মাজারের স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ নিলেও সরকার আকস্মিক জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো সিলেট জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। বিভিন্ন সামাজিক সংঘটনের ব্যানারে দিনব্যাপী বিক্ষোভ মানবন্ধন পালন করা হয়।