Monday 29 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৭ মাস ধরে খোঁড়া সড়ক, দুর্ভোগে ৩ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুন ২০২৬ ১১:৫৮

খুঁড়ে রাখা সড়কে গর্ত।

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সড়কটি সংস্কারের নামে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে কাজ শেষ না হওয়ায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃষ্টিতে সড়কটিতে কাদা হয়, আবার রোদ উঠলেই উড়ে ধুলা।  অসুস্থ রোগীকেও রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের সড়কজুড়ে আরসিসি পাইপ বসানোর জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। কোথাও কাদা, কোথাও পানি জমে রয়েছে। কয়েকটি স্থানে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এসকে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। শুরুতেই পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলা হলেও এরপর থেকে কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এই সড়কের পাশে রয়েছে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এসকে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বড় জামে মসজিদ এবং অসংখ্য আবাসিক ভবন। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার সময় সড়কের গর্তে পড়ে দুইজন পরীক্ষার্থী এবং পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক কাদায় ভরে যায়। আবার শুকিয়ে গেলে ধুলাবালির কারণে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ অসুস্থ হলে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এসকে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসতে হয়। বৃষ্টি হলে পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যায়। খুব বাজে অবস্থা তা বলে প্রকাশ করা যায় না। কয়েকজন গর্তে পড়ে আহত হয়েছে। দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার দাবি জানাই।’

৮৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়ান চৌধুরী জানায়, ‘স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। স্কুলের সামনেই বড় বড় গর্ত। অনেক ভয় হয়। এখন রিকশাও এই সড়কে চলতে পারে না। তাই হেঁটে চলাচল করতে হয়।’

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রাশেদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তার কারণে সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক সাত মাস ধরে খুঁড়ে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুধু স্কুলের শিক্ষার্থী নয়, এই সড়ক ব্যবহার করেন হাজারো মানুষ। কেউ অসুস্থ হলে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে, তাকে রিকশায় করে নেওয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত কাজ শেষ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

মসজিদের মুসল্লি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে এই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লিদের চলাচলে খুব কষ্ট হয়। বৃষ্টির সময় কাদা আর গর্ত এড়িয়ে মসজিদে পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়ে।’

আরেক মুসল্লি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জুমার দিনে শত শত মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সবাই দুর্ভোগে আছেন। দ্রুত কাজ শেষ করে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানাই।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুর্বল আর্থিক সক্ষমতার ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানোর কারণেই প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। তাদের দাবি, ঠিকাদার একটি কাজের বিল না পেলে আরেকটি কাজ এগিয়ে নিতে পারেন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক খুঁড়ে রেখে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা হয়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌর এলাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি প্যাকেজে কাজ চলছে। এর মধ্যে ৯ নম্বর প্যাকেজে পানি নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি পাইপ স্থাপন এবং সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহজাহান ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। তবে কাজটি একটি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সাব-ঠিকাদার সোহেল হোসেন বলেন, ‘সড়কের নিচে তিতাস গ্যাস ও পানির অসংখ্য পাইপ রয়েছে। এসব পাইপ অপসারণে বিলম্ব হওয়ায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। কিছু পাইপ সরানো গেলেও এখনও কিছু পাইপ রয়ে গেছে। এ কারণে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খান বলেন, ‘ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি নির্ধারিত গতিতে কাজ করছেন না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

দীর্ঘদিন ধরে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে এবং অযৌক্তিক বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর