ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নতুন ভবনের ৮তলা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে নাজমিন আক্তার (২০) নামে এক রোগী ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তিনি কিডনি ও হার্টের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগে ভর্তি ছিলেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে মৃত নাজমিনের বাবা জালাল খন্দকার বলেন, তাদের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস গ্রামে। জুবায়ের হোসেন নামে ৪ মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে নাজমিনের। গত রোববার ১৮জানুয়ারি নাজমিনকে ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের ৮ম তলায় ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিডনি, ফুসফুস সমস্যাসহ নানান শারীরিক সমস্যা ছিল তার।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও আড়াই মাস হাসপাতালটিতে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে গিয়েছিল। আজ রোববার সন্ধ্যায় বাবা জালাল খন্দকার রক্তের রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য যায়। এর কিছুক্ষণ পর নাজমিন মা শিল্পী বেগমকে পানি আনতে নিচে পাঠিয়ে দেয়। বাবা পানি নিয়ে ভবনটিতে ওঠার পথে নিচে মানুষের জটলা দেখতে পান। এগিয়ে গিয়ে দেখেন, তার মেয়েই মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তখন জানতে পারেন, ভবনটির উপর থেকে কিছুক্ষণ আগেই লাফিয়ে নিচে পড়েছে নাজমিন।
তিনি আরও জানান, ৪-৫ বছর আগে পাশের গ্রামের রায়হান নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় নাজমিনের। বিয়ের কিছুদিন পর অন্তঃসত্ত্বা হলে ৭ মাস চলাকালে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোক মিলে জোরপূর্বক তার বাচ্চা নষ্ট করে ফেলে। তখন থেকেই শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় নাজমিনের। এযাবৎ বাবা নিজে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে বিভিন্ন জায়গায় তার চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু, চিকিৎসার কোন খরচ দিত না স্বামী রায়হান। এর উপর আবার নাজমিনকে মারধরও করত। এসব কারণেই নাজমিন প্রায়ই হতাশাজনক কথাবার্তা বলত। আর বাঁচবে না বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলতো।
নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, নাজমিন মেডিসিন বিভাগে ভর্তি থাকা রোগী। ৮ম তলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে সে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল পরিচালককে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। এছাড়া শাহবাগ থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, নতুন ভবনের ৮তলা থেকে লাফিয়ে পরে এক নারী রোগী মারা গেছে। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। শাহবাগ থানায় খবর দেওয়া হয়েছে।