ঢাকা: শীতের বিদায়লগ্নে ঢাকার বায়ুদূষণ আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বের ১২৭টি দেশের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে পুরো শহরের মধ্যে খিলক্ষেতের অবস্থা বেশি ‘বিপজ্জনক’।
শুষ্ক আবহাওয়া আর ধূলিকণার দাপটে আজ সকালে রাজধানীর বাতাস ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই স্কোর ছিল ২৩৭, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
পুরো ঢাকার বায়ুমান খারাপ হলেও রিয়েল-টাইম স্টেশনগুলোর র্যাংকিং বলছে, কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় দূষণের মাত্রা এরই মধ্যে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ অবস্থায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে খিলক্ষেত এলাকার বাতাস সবচেয়ে বেশি দূষিত ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডি, দক্ষিণ পল্লবী, ইস্টার্ন হাউজিং, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মোকাররম ভবন এলাকাসহ বেশ কিছু স্থানে বাতাসের মান সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার এই দূষণের মূল কারণ পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম ধূলিকণা। এই অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো সহজে ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে, যার ফলে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদরোগের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শীতকালীন আবহাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া, চলমান নির্মাণকাজের ধুলো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই সংকটের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আজ দূষণের শীর্ষে রয়েছে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটার, যার স্কোর ২৫২। তালিকায় ঢাকার পরেই রয়েছে মিশরের কায়রো এবং ভারতের দিল্লি।
বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাইরে বের হওয়ার সময় সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি দূষণ রোধে নির্মাণাধীন স্থানে নিয়মিত পানি ছিটানো, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা এবং পুরোনো যানবাহন রাস্তায় বের না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।