ঢাকা: আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সাহসিকতার প্রশংসা করার পাশাপাশি সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
ফারাহ কবির তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে সাহসী মানুষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, জয়ের সংখ্যার চেয়েও বড় বিষয় হলো এই নারীরা একটি নতুন পথ তৈরি করেছেন, যা আগামী প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতিতে তাদের কাঙ্ক্ষিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আরপিও অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
নির্বাচনি মাঠে নারীরা নানা ধরনের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে ফারাহ কবির বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম শর্ত হলো একটি সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সময়ে নারী প্রার্থীদের জন্য ‘সাইবার বুলিং’ এবং সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহার একটি নতুন উপদ্রব হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রকৃত ক্ষমতা কি সামাজিক মাধ্যমের ‘ফলোয়ার’ সংখ্যার ওপর নাকি প্রকৃত ‘ভোটার’দের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত?
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ফারাহ কবির বলেন, গত কয়েক মাসে অনেক প্রাণ ঝরেছে এবং নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমরা শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি দেখতে চাই না, আমরা আসলে একটি ইমপ্যাক্টফুল (প্রভাবশালী) পরিবর্তন চাচ্ছি। নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর প্রতিনিধিগণসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।