ঢাকা: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হচ্ছে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। পবিত্র ঈদের ছুটিতে প্রিয়জনদের নিয়ে একটু স্বস্তির সময় কাটাতে প্রতি বছরই এখানে ভিড় জমান লাখো মানুষ। সেই চাপ সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের নতুনত্বের স্বাদ দিতে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। যদিও এবার ঈদের লম্বা ছুটি ও কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা থাকলেও লাখো মানুষকে বরণ করতে প্রস্তুত চিড়িয়াখানা।
এবার ঈদে উন্মুক্ত হচ্ছে ‘জিরাফ শাবক’
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা’র কিউরেটর মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সারাবাংলাকে জানান, ঈদুল ফিতরে নতুন কোনো প্রাণী আসছে না। মূল আকর্ষণ থাকছে নতুন একটি জিরাফ শাবক। এ ছাড়া সম্প্রতি জন্ম নেওয়া জলহস্তি ও হরিণের বাচ্চাদেরও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাঘ দম্পতি বেলি-টগরের ঘরে ৪ শাবক এসেছে। তবে সেগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।
তিনি জানান, বিদেশ থেকে চিতাবাঘ, ওয়াইল্ড বিস্ট ও ওয়াটার বার্ড আসার কথা রয়েছে, সেগুলো এবারের ঈদুল ফিতরে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ঈদের লম্বা ছুটির সঙ্গে কালবৈশাখের শঙ্কা থাকলেও আমাদের প্রত্যাশা এবারের ঈদেও বিগত বছরের মতো লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে। এই বিশাল জনস্রোত সামলাতে প্রবেশপথে টিকেটিং বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং ডিজিটাল টিকেটিং সিস্টেমে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সেসঙ্গে, ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানার ভেতরে ও বাইরে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ, র্যাব ও আনসারের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
চিড়িয়াখানার সামনের সড়কে দীর্ঘ যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
আতিকুর রহমান জানান, গরমে দর্শনার্থীদের কষ্ট লাঘবে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে এবং শেডগুলোতে নতুন করে রঙ ও মেরামতের কাজ শেষ করা হয়েছে। প্রাণীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ডায়েট ও ভিটামিন।
তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণত পর্যটন করপোরেশন তাদের নিজস্ব চারটা আউটলেট আছে। এ ছাড়া বাড়তি আরও দুইটা আউটলেট তৈরি করা হবে।
মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সারাবাংলাকে আরও বলেন, নতুন সরকার আসার পর থেকে আমরা চিড়িয়াখানার প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে পারছি এবং বর্তমান সরকার চিড়িয়াখানার ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক। আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের প্রজেক্ট যেটা দীর্ঘদিন যাবত ঝুলতেছিল সেটা সম্ভবত এই সরকারের সময় আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। আর এটা বাস্তবায়ন হলে আমরা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পারব বলে প্রত্যাশা করছি।
চলতি বছরে ঈদে সরকার মোট ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে, যা ১৭ মার্চ (শবে কদর) থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে। আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) অথবা ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২০ মার্চ থেকে পুরো সপ্তাহ চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড় থাকবে। আর ঈদের পরের দিন রোববার সাপ্তাহিক ছুটি হলেও খোলা থাকবে চিড়িয়াখানা।
ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী পুরো সপ্তাহ চিড়িয়াখানা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সাধারণত রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকলেও ঈদের ছুটিতে কোনো বন্ধ থাকবে না।
প্রবেশমূল্য আগের মতোই জনপ্রতি ৫০ টাকা রাখা হয়েছে, আর ০-২ বছরের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে।