ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে ছুটির আমেজে অনেকটাই ফাঁকা রাজধানী ঢাকা। যানবাহন কমে যাওয়ায় নগরীর বাতাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, কমেছে দূষণের চাপও।
ছুটির দিনে বৃহষ্পতিবার (১৯ মার্চ) সাধারণ সময়ের তুলনায় ঢাকার বায়ুমান তুলনামূলক উন্নত অবস্থায় রয়েছে, যা নগরবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে দেখা যায়, ঢাকার অবস্থান রয়েছে একুশ নম্বরে এবং এর মান নির্ধারণ করা হয়েছে সাতানব্বই, যা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ের নিচে, অর্থাৎ মাঝারি মানের মধ্যে অবস্থান করছে। এর অর্থ হলো, পরিস্থিতি আগের মতো ভয়াবহ না হলেও এখনো পুরোপুরি ভালো অবস্থায় পৌঁছায়নি।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে দিল্লি, যার বায়ুমান সূচক একশ ছেষট্টি। দ্বিতীয় অবস্থানে কায়রো এবং তৃতীয় স্থানে বাগদাদ, যাদের বায়ুমানও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। এসব শহরে দূষণের মাত্রা ঢাকার তুলনায় অনেক বেশি, যা বৈশ্বিক বায়ু সংকটের চিত্রই তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে যানবাহন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম কমে যাওয়ায় ঢাকার বায়ুমান সাময়িকভাবে উন্নত হয়। তবে ছুটি শেষে আবারও দূষণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
পরিবেশবিদদের মতে, নগরীতে গণপরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো যানবাহন অপসারণ এবং সবুজায়ন বাড়ানো ছাড়া এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নই পারে রাজধানীর বায়ুমানকে স্থায়ীভাবে উন্নত করতে।