ঢাকা: পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখী শোভাযাত্রায় বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের মিছিলে একেবারে সামনের সারিতে ছিল পুলিশের এই চৌকস ইউনিটটি।
২০টি সুসজ্জিত ঘোড়া নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সুশৃঙ্খল ও বীরত্বপূর্ণ উপস্থিতি রাজপথে আসা হাজারো দর্শনার্থীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। শোভাযাত্রার এই অনন্য সংযোজন পুরো আয়োজনে একটি রাজকীয় ও উৎসবমুখর আবহ ফুটিয়ে তুলেছে।

ডিএমপির সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল
ডিএমপির অশ্বারোহী ইউনিটের নেতৃত্বদানকারী উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, এই শোভাযাত্রার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০টি ঘোড়া অংশগ্রহণ করেছে। এই ঘোড়াগুলো মূলত ‘থ্রোব্রেড রাইডিং হর্স’ প্রজাতির। তাদের বিশেষ গতি, সহনশীলতা এবং নিয়ন্ত্রিত আচরণের জন্য তারা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, যার ফলে বিশাল জনসমুদ্রের মাঝেও তারা অত্যন্ত শান্ত ও সুশৃঙ্খলভাবে মার্চ করতে সক্ষম।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এসব ঘোড়াকে এমন বড় পরিসরের জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে, যা নিরাপত্তার পাশাপাশি উৎসবের নান্দনিকতাও বৃদ্ধি করেছে।
এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রায় লোকজ সংস্কৃতির পাঁচটি প্রধান মোটিফ- মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে। এই প্রতীকগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব এবং গতিময়তার বার্তা বহন করছে। ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর ঢোল-বাদ্যের তালে এবং ২০০ জন শিক্ষার্থীর হাতে থাকা জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ আভায় মুখরিত ছিল চারুকলা সংলগ্ন এলাকা।

ডিএমপির সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল
ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে পুলিশের অশ্বারোহী দল যেমন বাড়তি জৌলুস ছড়িয়েছে, তেমনি বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক নিরাপত্তার এক অপূর্ব সমন্বয় প্রত্যক্ষ করেছে রাজধানীবাসী।