Friday 08 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

ফুটপাতের হকারদের জন্য ৬ জায়গায় মাঠ ঠিক করা হয়েছে: ডিএনসিসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৮
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

ঢাকা: রাজধানীতে ফুটপাতের হকারদের জন্য ৬টি জায়গায় মাঠ ঠিক করা হয়েছে, সেখানে তাদের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং তাদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে?’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ যেকোনো সমস্যা হলেই সেটা সিটি করপোরেশনকে দোষ দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ফুটপাত নিয়ে কাজ করছি। ফুটপাতে আগে যেখানে ২০০ হকার ছিল, এখন তা বেড়ে প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুই শতাংশ মানুষের কারণে ৯৮ শতাংশ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।’

বিজ্ঞাপন

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটপাতের হকারদের যখন বলেছিলাম ব্যবসা করার জন্য তাদের আলাদা স্থান দেওয়া হবে, তখন তারাও রাজী হয়েছিল। কিন্তু তাদের নিয়ে যখন বসলাম তখন দেখলাম ভিন্ন চিত্র। দুই হাজার জনকে নিয়ে আমরা বসেছিলাম। তাদের মধ্যে কেউ বলল ২ বছর সময় দিতে হবে, আরেকজন বলল ২৫ বছর এখানে আছি এখানেই থাকবো, অন্যদেরও একই কথা তারা অন্য জায়গায় যেতে চায় না। কি এক মুছিবত। হকারদের জন্য আমরা ৬টি জায়গায় মাঠ ঠিক করেছি, সেখানে তাদের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তাদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে। সামান্য কিছু ফি দিয়ে তাদের সেখানে থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা যা করি, তার অধিকাংশই সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘নগরি মৃত হয়নি, এখনও আশার আলো আছে। আসলে সমন্বয় করতে হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের দৌড়ের উপর রেখেছেন। তবে সঠিকভাবে যদি আইন ও তদারকি করা হয় তাহলে খরচও কমে আসবে। পূর্বাচলকে এখন আমরা একটা কার্যকরী নগরীতে রূপান্তরিত করতে পারবো। আর করাইল বস্তির লোক ওই ভাবেই থাকতে চায়। তারা হোল্ডিং নম্বরে পরিচিত হতে চায় না। তারা চায় গ্রামের মত বাপ দাদার নামে পরিচিত থাকতে।’

কীটতত্ত্ববিদ ইন্দ্রাণী ধর বলেন, ‘দেশে কেউলেক্স ও এডিস এই দুই ধরনের মশা আছে। এদের আমার একই ধরনে নির্মূল করতে চাচ্ছি। এই মশার একটা জন্মায় নোংরা পানিতে এবং আরেকটি জন্মায় পরিষ্কার পানিতে। ফগিং ও স্প্রে করে মশা নির্মূল করা যাবে না। এ জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উৎস স্থান ধ্বংস করতে হবে। আমরা আর এক্সপেরিমেন্ট না করে মূল কাজটা শুরু করি। মশা মারায় ক্ষেত্রে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আলাদা না করে একটা সেন্টার তৈরি করতে হবে।’

নগর পরিকল্পনাবিদ সুজাউল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের নীতিমালা আছে কিন্তু আমরা কোনো আবাসিক পরিকল্পনা করিনা। পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা না হলে কিছুই হবে না। আমরা গুলশান, বারিধারা, বনানীর অর্থাৎ সিটির ৫ শতাংশ মানুষের থাকা নিয়ে খুবই চিন্তিত। কিন্তু করাইলে যারা আছে এ রকম এলাকার মানুষদের নিয়ে আমরা চিন্তা করিনা। সুন্দর সমাজ না গড়লে আমরা সুন্দর সিটি গড়তে পারবো না।’

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। তিনি বলেন, ‘একটি শহরকে তখনই ‘মৃত’ বলা হয় যখন, সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপন ভেঙে পড়ে-বাতাসে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়, চলাচল স্থবির হয়ে যায়, পানি-নিকাশ ব্যবস্থা কাজ করে না, আর নাগরিক সেবাগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই মানদণ্ডগুলো দিয়ে দেখলে ঢাকার বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনকভাবে কাছাকাছি। আজ আমি যে প্রশ্নটি সামনে আনতে চাই, সেটি কেবলই প্রশ্ন তোলার জন্য প্রশ্ন নয়-এটি এখন আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন: ঢাকা কি ধীরে ধীরে একটি মৃত নগরীতে পরিণত হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাব ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) তাদের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল লীভঅ্যাবিলিটি ইনডেক্স ২০২৫’-এ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ঢাকাকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পরেই ঢাকার অবস্থান দেখিয়েছে। কারণ হিসেবে ইআইইউ বলেছে, ঢাকার অধিক জনসংখ্যা, যানজট ও দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কথা। তালিকায় এরপরই রয়েছে পাকিস্তানের করাচি ও আলজেরিয়ার আলজেরিস শহর। এই তালিকা থেকে আমরা বুঝতে পারছি, আমাদের অবস্থান কোথায়। আমাদের নগর পরিকল্পনায় ব্যর্থতা, পরিবেশগত বিপর্যয়, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকারের অবক্ষয়-সব মিলিয়ে ঢাকার সংকট একটি ‘অচল মেগাসিটির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, ঢাকা এখনও মৃত নয়। কিন্তু আমরা যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তাহলে এই শহরকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে। এটি কেবল একটি শহর রক্ষার লড়াই নয়। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। সেজন্য সবার আগে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এই শহরকে আমরা বাঁচিয়ে রাখব, তাহলেই আশা করছি, বাকী সব ঠিক হয়ে যাবে।

সারাবাংলা/এমএইচ

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর