Sunday 31 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিশেষ আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
ছুটির শেষ দিনে চিড়িয়াখানায় উপচেপড়া ভিড়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩১ মে ২০২৬ ১৯:৫১ | আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ১৯:৫৮

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ঈদের টানা ছুটির শেষ দিন রোববার (৩১ মে) খাঁ খাঁ রোদ্দুর উপেক্ষা করেই রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেমেছিল মানুষের ঢল। ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১০টা বাজতেই টিকিট কাউন্টারের সামনে তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন। ঢাকার শেওড়াপাড়া, রামপুরা, মোহাম্মদপুর তো বটেই, দূর-দূরান্তের গাজীপুর, টঙ্গী, ডেমরা এমনকি নারায়ণগঞ্জ থেকেও মানুষ ছুটে এসেছেন পশুপাখির সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।

তীব্র গরমের মাঝেও শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী দর্শনার্থীদের চোখে-মুখে ছিল কেবলই উচ্ছ্বাস। কেউ লেকপাড়ে বসে গাছের ছায়ায় ক্লান্তি দূর করছেন, কেউ আবার বাঘ, সিংহ, হাতি আর জিরাফের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে ফ্রেমবন্দি করছেন জীবনের চমৎকার কিছু মুহূর্ত। স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে বের হয়ে বাস্তবের পশুপাখির সঙ্গে শিশুদের এই পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আনন্দই ছিল অন্যরকম।

বিজ্ঞাপন

রামপুরা থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে আসা জেসমিন আক্তার নামের এক দর্শনার্থী সারাবাংলাকে জানালেন, অনেকদিন ধরেই দুই ছেলে চিড়িয়াখানায় আসার বায়না ধরছিল, আজ ওদের বাঘ আর হাতি সামনাসামনি দেখাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এটা ওদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।

তবে এবারের ঈদের চিড়িয়াখানার আসল ‘শো-স্টপার’ কিন্তু কোনো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা আফ্রিকান সিংহ ছিল না। দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিচিত্র এক সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। মার্কিন মুলুকের প্রেসিডেন্ট নন, এটি আসলে কোরবানির হাট কাঁপানো বহুল আলোচিত সাদা অ্যালবিনো মহিষ। হাটে বিক্রি হওয়ার পর বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঠাঁই পাওয়া এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে এক নজর দেখতে খাঁচার সামনে ছিল তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া মহিষটিকে সামনাসামনি দেখে দর্শনার্থীদের কৌতূহলের যেন শেষ ছিল না।

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ছবি: সারাবাংলা

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ছবি: সারাবাংলা

বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তমা আহমেদ বেশ রসিকতা করেই সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বললেন, ‘ফেসবুকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষটিকে দেখেছিলাম। সরাসরি দেখার দারুণ আগ্রহ থেকেই বন্ধুদের নিয়ে ছুটে এসেছি। রাজকীয় নামের এই ধবধবে সাদা মহিষটিকে এত কাছ থেকে দেখতে পেরে আমাদের ঈদের আনন্দটাই পুরো উশুল হয়ে গেছে।’

বাবার কাঁধে চড়ে মহিষটিকে দেখতে আসা ছোট্ট শিশু রায়ান দুই হাত নেড়ে তার স্বভাবসুলভ মিষ্টি গলায় বলে উঠল, ‘সাদা মহিষটা দেখতে একদম রাজপুত্রের মতো সুন্দর। এর নাম নাকি ট্রাম্প। আমি বাসায় গিয়ে বন্ধুদের বলব, ট্রাম্পকে দেখে এসেছি।’

এই মহিষের ক্রেজ এতটাই যে, ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে শুধুমাত্র একে দেখার জন্যই ছুটে এসেছেন মিরপুরে। নারায়ণগঞ্জ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে আসা ব্যবসায়ী কামরুল হাসান সারাবাংলাকে বলেন, “সত্যি বলতে চিড়িয়াখানায় আসার কোনো প্ল্যান আমাদের ছিল না। আমার ছোট ছেলেটা ফেসবুকে আর টিভিতে এই সাদা মহিষের খবর দেখে জেদ ধরে বসেছিল যে তাকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দেখতেই হবে। ওর জেদের কারণেই ছুটির শেষ দিনে এই গরমে পুরো পরিবার নিয়ে এখানে আসা। তবে খাঁচার সামনে এসে ছেলের মুখের হাসি দেখে সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে গেছি।”

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থান পাওয়া সাদা মহিষ। ছবি: সারাবাংলা

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থান পাওয়া সাদা মহিষ। ছবি: সারাবাংলা

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মুখেও ছিল চওড়া হাসি। ঈদের দ্বিতীয় দিনেই যেখানে এক লাখের বেশি মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল এই বিনোদনকেন্দ্র, ছুটির শেষ দিনে সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দর্শকদের জন্য বিশুদ্ধ পানি থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা রেখেছিলেন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা।

সিংহের খাঁচা থেকে ভেসে আসা গর্জন আর পাখির অভয়ারণ্যে ময়ূরের পেখম মেলার দৃশ্য চিড়িয়াখানায় আসা প্রতিটি মানুষের ছুটির শেষ দিনটিকে করে তুলেছে মনে রাখার মতো এক দারুণ অভিজ্ঞতা। মোহাম্মদপুর থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী তরিফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাচ্চারা সাধারণত মোবাইল ফোনেই বেশি সময় কাটায়। তাই, বাস্তবের পশুপাখি দেখানোর জন্য সন্তানদের এখানে নিয়ে এসেছি। ছুটির শেষ দিনে এত ভিড়ের মধ্যেও পরিবেশটা আমরা দারুণ উপভোগ করছি।’

বিকেল গড়িয়ে সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ছিল, তখনও চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে মানুষের ভিড় কমেনি একটুও। বরং দুপুর ৩টার পর থেকে আরও বেড়েছে ভিড়। ক্লান্ত কিন্তু তৃপ্ত মন নিয়ে, খাঁচাবন্দি বন্যপ্রাণের বৈচিত্র্য আর ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দর্শনের একরাশ গল্প বুকে নিয়ে একে একে ঘরে ফিরতে শুরু করেন উৎসবপ্রিয় বাঙালি। যান্ত্রিক নগরে কর্মব্যস্ত জীবনে ফেরার আগে এই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো যে সবার মনে সতেজতার এক নতুন জ্বালানি জুগিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম