Friday 30 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ফটোসাংবাদিকদের ইতিহাসও ততদিন থাকবে’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০৭

‘রূপসী বাংলা’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিচ্ছেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

ঢাকা: বাংলাদেশের ইতিহাসে ফটোসাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ফটোসাংবাদিকদের ইতিহাসও ততদিন থাকবে।

তিনি বলেন, সমাজে যাদের দায়িত্ব বেশি এবং যারা বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, তারা অনেক সময় অবহেলিতই থেকে যান। ফটোসাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নেন। গুলির মুখে, কাঁদানে গ্যাসের মধ্যে, লাঠিচার্জের সময়ও তাদের কাজ করতে হয়। অনেক সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করতে গিয়ে সাংবাদিকরাই বেশি মারধরের শিকার হন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) হলরুমে আয়োজিত ‘রূপসী বাংলা’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আবদুস সালাম বলেন, একজন লিখিত সাংবাদিক অনেক সময় নিরাপদ দূরত্বে থেকে সংবাদ লিখতে পারেন। কিন্তু ফটো সাংবাদিককে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি তুলতে হয়। ফলে তার ঝুঁকিটাও অনেক বেশি। অথচ দায়িত্বের তুলনায় ফটোসাংবাদিকরা যেভাবে মূল্যায়ন পাওয়ার কথা, সেভাবে মূল্যায়ন পান না।

তিনি বলেন, একটি ছবি একটি ইতিহাস। বাংলাদেশের অভ্যুদয় থেকে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন সংগ্রাম ও আন্দোলনের ইতিহাসে ফটোসাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৭১, ১৯৭১-পরবর্তী সময় এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ফটোসাংবাদিকরা ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। এসব ছবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস জানতে এবং অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফটোসাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, দায়িত্বের পাশাপাশি ফটো সাংবাদিকদের যে ঝুঁকি নিতে হয়, তা অন্য অনেক পেশার তুলনায় বেশি। তাই তাদের মূল্যায়ন ও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

‘একটি ছবি অনেক কথা বলে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ছবির মাধ্যমে সারা পৃথিবী জানতে পারে একটি দেশে কী ঘটছে। অনেক সময় দীর্ঘ লেখা সাজানো হতে পারে, কিন্তু একটি ছবি ঘটনার বাস্তবতা তুলে ধরে। সেই সত্য ইতিহাস যারা ধারণ করেন, তাদের আরও বেশি মূল্যায়ন করা সবার দায়িত্ব।

ফটোসাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমি খুব ক্ষুদ্র একজন ব্যক্তি। আমাকে বললে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। আপনাদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরতে হবে। আপনাদের জায়গা ও কার্যালয়-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমার কিছু করার থাকলে আমি তা করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, সবকিছু বিনিময়ের মাধ্যমে হয় না। কাজের প্রতি আন্তরিকতা, আগ্রহ ও ভালোবাসা থাকতে হয়। কে লিখিত সাংবাদিক হবেন, কে ফটোসাংবাদিক হবেন, কে ইনডোরে কাজ করবেন আর কে আউটডোরে কাজ করবেন—এটাও সৃষ্টিকর্তার নির্ধারণ। যে যার জায়গায় কাজ করছেন, তাকে সহযোগিতা করা হলে তিনি আরও ভালো করতে পারবেন।

আবদুস সালাম আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সাংবাদিকদের পাশাপাশি ফটোসাংবাদিকরাও অংশ নিয়েছেন। আপনারা মাঠে থেকে মিছিল-মিটিং করেছেন, ছবি তুলেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন সময়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। একটি ছবি মানুষের মধ্যে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনাদের ভূমিকার কারণেই অনেক ঘটনা মানুষের সামনে এসেছে।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে ফটোসাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি ও কথাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে ন্যায্য বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। ভবিষ্যতেও তিনি ফটোসাংবাদিকদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

‘রূপসী বাংলা’ প্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন থাকবে, ফটোসাংবাদিকদের ইতিহাসও ততদিন থাকবে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধারণ করা ছবির সঙ্গে ফটোসাংবাদিকদের নামও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিপিজেএ সভাপতি এ কে এম মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সিনিয়র সাংবাদিক এ বি এম রফিকুর রহমান, নুরুদ্দিন আহমেদ, বিপিজেএর সহসভাপতি মশিউর রহমান সুমন, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাদল, কোষাধ্যক্ষ নাসিম শিকদার, দফতর সম্পাদক ফরিদ উদ্দীন, নির্বাহী সদস্য শফিকুল আলম, আমিনুল ইসলামসহ রংপুর জেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ফটো সাংবাদিকরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর