ঢাকা: উপনিবেশবিরোধী নেতাদের স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায়। বক্তরা বলেছেন, বাংলাদেশ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তবে ১৯০ বছর দীর্ঘ ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী লড়াই সংগ্রামও আমাদের স্বাধীনতার ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি ছিল। সরকারের উচিত উপনিবেশবিরোধী প্রধান নেতাদের স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা।
শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে উপনিবেশবিরোধী ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা মোহসেন উদ্দীন আহমদ দুদু মিয়ার ১৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, উনিশ শতকে বাংলার মাটিতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও সামন্ত জমিদারী শোষণের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, ফরায়েজী আন্দোলন তার অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়। এই আন্দোলনের অন্যতম রূপকার হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি দুদু মিয়া নিজস্ব সেনাবাহিনী, বিচার ব্যবস্থা ও মুদ্রা চালু করে স্বাধীনতার এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিলেন।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য দেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, প্যান ইসলামিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব শফিকুর রহমান প্রমুখ।
সভায় দুদু মিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
সভা থেকে দুদু মিয়াকে উপনিবেশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান; জাতীয় পর্যায়ে তার জীবন, সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক অবদানের যথাযথ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন; বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার সাংগঠনিক কর্মপদ্ধতি, প্রশাসনিক কাঠামো ও আন্দোলন-দর্শন নিয়ে পরিকল্পিত গবেষণা পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
সভা শেষে মোহসেন উদ্দীন আহমদ দুদু মিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।