Friday 02 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফিরে দেখা ২০২৫: যেমন ছিল চট্টগ্রাম

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৭ | আপডেট: ২ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০২

ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গুলিবিদ্ধ হওয়া, সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সিএমপি কমিশনারের ‍গুলির নির্দেশ, ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচন, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার আন্দোলন, গ্রামবাসীর সঙ্গে চবি ছাত্রদের সংঘাত, একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে ‘সন্ত্রাসের জনপদে’ পরিণত হওয়া রাউজান- এমন কিছু আলোচিত ঘটনা বারবার সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়ে এসেছে। এ ছাড়া ২০২৫ সাল মোটামুটি নিস্তরঙ্গভাবেই পার করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।

নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই গুলিবিদ্ধ এরশাদ উল্লাহ

সদ্য বিদায়ী বছরের ৪ নভেম্বর বিএনপি তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার হাজীপাড়া এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। বিএনপি কর্মী সরোয়ার হোসেন বাবলাও সেখানে ছিলেন, যিনি আগ থেকেই সন্ত্রাসে অভিযুক্ত। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এরশাদ উল্লাহ বিভিন্ন দোকানে গিয়ে লিফলেট বিলির সময় একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতে গিয়ে সরোয়ার হোসেন বাবলাকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় বাবলা সেখানে লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিবিদ্ধ হয় এরশাদ উল্লাহর পায়ে। তাদের দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বাবলাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর এরশাদ উল্লাহ চিকিৎসায় সুস্থ হন।

বিজ্ঞাপন

একেবারে নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই একজন প্রার্থীর গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তবে পরবর্তীতে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে সরোয়ার হোসেন বাবলার বিরোধে এ ঘটনা ঘটে। মূলত বাবলার ওপর আক্রমণের মধ্যে এরশাদ উল্লাহও আক্রান্ত হন।

সন্ত্রাসীদের দাপট ও সিএমপি কমিশনারের ‍গুলির নির্দেশ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দৃশ্যপটে আসে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। কথায় কথায় গুলি ছোঁড়া, ‍হুমকি-ধমকি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ওসিকে ন্যাংটা করে পেটানোর হুমকিসহ নানাভাবে চট্টগ্রাম নগরী দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করে।

এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনার পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা থেকে পুলিশ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে। ছোট সাজ্জাদ তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আরেক ‘সন্ত্রাসী’ সরওয়ার হোসেন বাবলাকে সন্দেহ করেছিলেন। এরপর ঈদুল ফিতরের আগেরদিন ২৯ মার্চ গভীর রাতে নগরীর বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে চলন্ত প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে একাধিক মোটরসাইকেলে থাকা সন্ত্রাসীরা। সেই কারে চালকের পাশের সিটে বসা ছিলেন সরোয়ার। ধাওয়ার মুখে কারটি বাকলিয়া এক্সেস রোড দিয়ে এসে চন্দনপুরায় প্রবেশমুখে থেমে যায়। তখন মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের মুহুর্মুহু গুলিতে দুজন নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। সরোয়ারকে মেরে ফেলার জন্য এই হামলা হলেও অল্পের জন্য তিনি সেসময় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় কারাবন্দি ছোট সাজ্জাদকে প্রধান আসামি করে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাসহ সাতজনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা হয়। পরে তামান্নাকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর ছোট সাজ্জাদের টার্গেট করা সরোয়ার হোসেন বাবলা বাঁচতে পারেনি।

বিদেশে থাকা আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে ছোট সাজ্জাদ ও তার বাহিনী চট্টগ্রামের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য।

সন্ত্রাসীদের এমন দৌরাত্ম্যের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) ভূমিকা নিয়ে বিভিন্নমহলে প্রশ্ন ওঠে। এরপর গত ১১ নভেম্বর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে দেখামাত্র গুলি করে (বার্স্টফায়ার) হত্যার নির্দেশনা দেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।

সিএমপির সকল থানা-ফাঁড়িতে দায়িত্বরতসহ সকল পুলিশ সদস্যদের বেতার (অয়্যারলেস) বার্তায় কমিশনার মৌখিকভাবে এ নির্দেশনা দেন।

এর আগে গত আগস্টে সিএমপি কমিশনার একইভাবে বেতার বার্তায় পুলিশের কোনো টহল দলের সামনে কিংবা অভিযানের সময় কেউ অস্ত্র বের করলে আত্মরক্ষায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালে এসে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮টি পদের মধ্যে ভিপি-জিএসসহ ২৩টি পদে জয় পায় ছাত্রশিবির। ১১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নির্বাচন হয়। সেখানেও জিএসসহ ১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টিতে জয় পায় শিবির।

তৃতীয় দফায় ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় চাকসু নির্বাচন। এতে ভিপি-জিএসসহ ২৪ পদে ছাত্রশিবির এবং এজিএস পদে ছাত্রদলের প্রার্থী জয়ী হয়। এর মধ্য দিয়ে ৪৪ বছর পর ছাত্রশিবির চাকসুর নেতৃত্বে ফিরে আসে। চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই মাস ধরে সরগরম ছিল সবুজ পাহাড়ের ক্যাম্পাসটি। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঢেউ লেগেছিল মূল রাজনৈতিক অঙ্গনেও। কিন্তু শেষপর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই চাকসু নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭০ সালে প্রথম ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং জিএস হন ছাত্রলীগের আবদুর রব। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন চাকসু জিএস আবদুর রব।

১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় চাকসু নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়নের শামসুজ্জামান হীরা ভিপি এবং জাসদ ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান মান্না জিএস নির্বাচিত হন।

১৯৭৪ সালের তৃতীয় চাকসু নির্বাচনে জাসদ ছাত্রলীগের এস এম ফজলুল হক ভিপি ও গোলাম জিলানী চৌধুরী জিএস নির্বাচিত হন।

১৯৭৯ সালের চতুর্থ চাকসু নির্বাচনে ভিপি হন জাসদ ছাত্রলীগের মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী এবং জিএস হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের জমির চৌধুরী।

১৯৮১ সালে চাকসুর পঞ্চম নির্বাচনে ভিপি ও জিএস পদে নির্বাচিত হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেসময়ের নেতা জসিম উদ্দিন সরকার ও আবদুল গাফফার।

১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ চাকসু নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় ছাত্রলীগের নাজিম উদ্দিন ভিপি নির্বাচিত হন। আর জিএস নির্বাচিত হন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমদ।

কিন্তু সর্বশেষ ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা ফারুকুজ্জামান নিহত হলে চাকসুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালে চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার আন্দোলন

২০২৫ সাল জুড়ে আলোচনার মধ্যে ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। কারণ, বিভিন্ন স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া নিয়ে শক্ত বিরোধিতার মুখে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, যদি এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার পরিবহণকারী স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চরে প্রস্তাবিত কনটেইনার টার্মিনালসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া ‍শুরু করেছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সালের জুনে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনার ভার দেওয়া হয় সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে।

তবে অন্যান্য স্থাপনগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের বন্দরের প্রস্তাবিত লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালটি ৩০ বছর মেয়াদে পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান এপি মোলার মায়ের্স্ক (এপিএম)- এর সঙ্গে চুক্তি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইদিন ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগের দায়িত্বে দিতে চুক্তি সই করে সরকার। এনসিটি পরিচালনার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারেই সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ এনে শুরু থেকেই প্রতিবাদে সরব ভূমিকা পালন করে আসছে দেশের বামপন্থী দলগুলো। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের মোহনায় একটি বেসরকারি বন্দর করার জন্য আমেরিকাভিত্তিক এসএসএ পোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু সেসময় বাম রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিবাদের মুখে সেই প্রক্রিয়া স্তিমিত হয়ে যায়। তখন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা মোহাম্মদ শাহআলমসহ চারজন হাইকোর্টে রিট করলে সেই প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দরের স্থাপনা ইজারা দেওয়া নিয়ে বামদলগুলো আন্দোলন শুরু করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গত জুন মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চ করে বন্দর নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করে তারা। এরপর ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল, বন্দর শ্রমিক সংঘসহ আরও বিভিন্ন সংগঠন তাদের মতো করে আন্দোলন সংগঠিত করতে শুরু করে। সর্বশেষ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সম্মিলিত মোর্চা শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) জোরালোভাবে এ আন্দোলনে মাঠে নামে। স্কপের ডাকে বন্দর অবরোধ কর্মসূচিও হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী এবং হেফাজতে ইসলামও বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়।

বিরোধিতাকারীদের পক্ষ থেকে নানা বক্তব্য এলেও চুক্তি নিয়ে গোপনীয়তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা- এ দুটি ইস্যু তাদের কাছে মূলত প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এলে চাকরি হারানোর ধূয়া তুলে শ্রমিক-কর্মচারীদের আতঙ্কিত করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও অমূলক।

গ্রামবাসীর সঙ্গে চবি ছাত্রদের সংঘাত

চলতি বছরের ৩০ আগস্ট রাত থেকে দুইদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর দফায়, দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত তিন শতাধিক আহত হয়, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয় হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট এলাকায় একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রী রাতে বাসায় প্রবেশ নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী সেজে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের লোকজন নির্বিচারে শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) আব্দুর রহিম বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। এতে ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৮০০ থেকে ১ হাজার জনকে আসামি করা হয়।

সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর শিক্ষার্থীরা শান্ত হন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

‘রক্তে ভেজা রাউজান’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়। ২০২৫ সালের বড় অংশজুড়েও খুনখারাবি, ‍গোলাগুলি, সংঘাতের ঘটনা লেগেই ছিল। আর রাজনৈতিক এসব সংঘাতের সঙ্গে জড়িত বিএনপির দুটি গ্রুপ।

গত এক বছরে রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১২টি সরাসরি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির কমর উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম, মানিক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ সেলিম, দিদারুল আলম,বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও আবদুল হাকিম, যুবদলকর্মী আলমগীর আলম এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, আবু তাহের ও মুহাম্মদ হাসান খুনের শিকার হয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাউজান উপজেলায় ‘গডফাদারের’ তকমা পাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর আমলে আওয়ামী লীগের ১৫ বছর বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া ছিলেন। অনেক নেতাকর্মী বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। যারা দেশে ছিলেন, তারাও রাউজানে যেতে পারতেন না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাউজানের বিএনপি নেতাকর্মীরা ফিরে আসেন। কিন্তু শুরু থেকেই রাউজানে বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একভাগে আছেন গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুরাসীরা, আরেক ভাগে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা। অভিযোগ আছে, দুই নেতার অনুসারীদের বিরোধের জেরে চলছে সংঘাত, খুনোখুনির ঘটনা।

সারাবাংলা/আরডি/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর