চট্টগ্রাম ব্যুরো: উদ্ধার করা ইয়াবা আত্মসাত করে পাচারকারীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ এ আদেশ দিয়েছেন।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— বাকলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, ও মোহাম্মদ আমির হোসেন, এএসআই সাইফুল আলম, মো. জিয়াউর রহমান, সাদ্দাম হোসেন ও এনামুল হক এবং কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা ও উম্মে হাবিবা স্বপ্না।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) আমিনুর রশীদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘ইয়াবা উদ্ধার অভিযান নিয়ে একটি ঘটনায় সিএমপি কমিশনার স্যার বাকলিয়া থানার ৮ জন পুলিশ সদস্যকে সোমবার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত অবস্থায় থাকবেন।’
জানা গেছে, এক মাস আগে নগরীর বাকলিয়া থানায় প্রায় এক লাখ ইয়াবা উদ্ধারের একটি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা তদন্তে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে দায়িত্ব দেন সিএমপি কমিশনার। তদন্তে ৮ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে উদ্ধার করা ইয়াবা আত্মসাত, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিকে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সিএমপি কমিশনার সোমবার তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন বলে জানান এডিসি আমিনুর রশীদ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি বাস চট্টগ্রাম নগরীর শাহ আমানত সেতু পার হওয়ার পর বাকলিয়া থানার চেকপোস্টে তল্লাশির মুখে পড়ে। এসময় সেখান থেকে মো. ইমতিয়াজ হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয় এবং তার ট্রলিব্যাগে প্রায় ১ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়।
ইমতিয়াজ কক্সবাজার জেলা পুলিশে কর্মরত আছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় হস্তান্তরের জন্য যাচ্ছিল বলে স্বীকার করেছিল। কিন্তু অভিযান চালানো পুলিশ সদস্যরা ইমতিয়াজকে ছেড়ে দিয়ে ইয়াবাগুলো আত্মসাত করেন। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠার পর ওই পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন।