Tuesday 06 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শীতের ট্র্যাজেডি
সড়ক থেকে উদ্ধার মোরশেদ চলে গেল বোনকে একা রেখে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৪ | আপডেট: ৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৪

সড়ক থেকে উদ্ধার মোরশেদ চলে গেল বোনকে একা রেখে। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় শীতের রাতে সড়কের পাশ থেকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর একজন মারা গেছে। শিশু দুটির বাবার খোঁজ মিললেও মায়ের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

১৪ মাস বয়সী মোরশেদ নামের শিশুটির সঙ্গে তার বোন সাড়ে তিন বছর বয়সী আয়েশাকে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজার গেট এলাকায় সড়কের পাশে পাওয়া যায়।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার সারাবাংলাকে বলেন, ‘১৪ মাস বয়সী মোরশেদ শুরু থেকেই অসুস্থ ছিল। তাকে গত ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরদিন তাকে চমেক হাসপাতালের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। অভিভাবক হিসেবে গতকাল (রোববার) থেকে তার দাদি হাসপাতালে ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা গেছে শিশুটি। মরদেহ তার দাদির কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ২৮ অক্টোবর রাতে সড়কের পাশে বসে শীতে কাঁপতে থাকা শিশু দুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন মহিম উদ্দিন নামে এক অটোরিকশা চালক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশু দুটির প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ৩০ ডিসেম্বর শিশু দুটির দায়িত্ব নেন। ওইদিনই মোরশেদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আয়েশা এখনো মহিমের পরিবারের হেফাজতে আছে।

ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘আয়েশা জানিয়েছিল, তার মা তাদের শীতের রাতে রাস্তায় ফেলে যায়। যেহেতু শিশুটির বয়স একেবারে কম, আমরা সেটি পুরোপুরি সঠিক বলে ধরে নিতে পারছি না। তবে মায়ের খোঁজ আমরা এখনো পাইনি। তাদের বাবা খোরশেদ আলমকে গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে বাঁশখালী থেকে আটক করা হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলায়।’

‘খোরশেদের স্ত্রী ঝিনুক আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, ঝিনুক ছয় মাস আগে দুই সন্তান নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর ঘরে ফেরেননি। তার এ বক্তব্যের সত্যতাও আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর