চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে সোনার দোকানের কর্মচারীকে জিম্মি করে ৩৫টি সোনার বার ছিনিয়ে নেওয়ার চারদিন পর ২৯টি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ছিনতাইয়ে নেতৃত্বদাতা ও তার স্ত্রীসহ ৬ জনকে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে চাকরিচ্যুত একজন সাবেক পুলিশ সদস্যের নেতৃত্বে ৪ জন এ ছিনতাইয়ে জড়িত ছিলেন। ছিনতাই করা সোনার বার হেফাজতে রাখা এবং ছিনতাইকারীর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ে জড়িত ছিলেন আরও কয়েকজন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিএমপিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত টানা দুইদিনের অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৪ জানুয়ারি সকাল ৫টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা চারজন ছিনতাইকারী চলন্ত সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবুজ দেবনাথ নামে একজনের কাছ থেকে ৩৫টি সোনার বার, ৩টি মোবাইল ও কিছু নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন সবুজ।
পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল করিম সারাবাংলাকে জানান, নগরীর হাজারী লেইনের কৃষ্ণ চন্দ্র কর্মকার নামে একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী সবুজ দেবনাথ। সবুজসহ তিনজন ওই দোকানের ৩৫টি সোনার বার নিয়ে নগরীর সাবএরিয়া থেকে অটোরিকশায় করে বায়েজিদ বোস্তামি যাবার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন তারা।
এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ৬ জন হলেন- পুলিশের সাবেক এএসআই সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), সুমনের স্ত্রী পান্না রাণী দাস (৩৮), তার ভাই রবি কুমার দাস (৪০) এবং ওই জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিক (৪২)।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৬ কোটি টাকা দামের ২৯০ ভরি ওজনের ২৯টি সোনার বারের সঙ্গে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের নগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনার পরপরই ছিনতাইকারীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর জেলার কাশিমপুরের মাধবপুর থেকে
সুমন, মাসুদ ও ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। মূল ছিনতাইয়ে জড়িত চারজনের মধ্যে একজন এখনো পলাতক আছেন।
এরপর সুমনের দেওয়া তথ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকা থেকে রবিকে এবং চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে পান্নাকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকার মোহাম্মদপুরে পান্নার বোন প্রতিমা দাশের বাসা থেকে ২৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
এরপর ছিনতাইকারীদের সোনার বার বহনের তথ্য দেওয়া জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিককে গ্রেফতার করা হয়।
ওসি আব্দুল করিম বলেন, ‘সাবেক এএসআই সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিবেকের। বিবেক তাকে তথ্য দেয় যে, তাদের দোকানের একজন কর্মচারী সোনার বার নিয়ে যাবে। এরপর সুমন ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনা সাজায়। ছিনতাইয়ের পর সোনার বারগুলো রাখে স্ত্রী পান্না ও শ্যালক রবির হেফাজতে। রবি আবার বারগুলো নিয়ে তার বোন প্রতিমার কাছে রাখে, যদিও প্রতিমা এ বিষয়ে কিছুই জানতো না।’
সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়ানোর কারণে সুমনকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় পুলিশ বাহিনী থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়েছিল। সে জেলেও গিয়েছিল। কিন্তু জেল খেকে বেরিয়ে এখন একটি পেশাদার ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।’