চট্টগ্রাম ব্যুরো: আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর জামালখানে একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বেশকিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, যেসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বেআইনি কর্মকাণ্ড করছে তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় এনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এটা প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রার্থী হিসেবে প্রশাসনকে যেটুকু সহযোগিতা করার সেটুকু আমরা করতে চাই।’
‘ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ করে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য যারা স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে তারা এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, কোনোভাবেই ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া-আসায় কোনো বাধার সৃষ্টি হবে না। তারা এটা সিরিয়াসলি মনিটর করে এ ব্যাপারে আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তাদের সেই আশ্বাসে আমরা আস্থা রাখতে চাই। আশাকরি কোনো অপশক্তি পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারবে না। কারণ জনগণ সচেতন আছে।’
শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ প্রচারণায় গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ সাহেবের গণসংযোগে গুলিবর্ষণ হয়েছে, একজন মারা গেছে। তারপর ঢাকায় ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা এ সমস্ত ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নিতে পারি না। আমরা মনে করি, এটা নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করার জন্যে কোনো না কোনো মহল, যারা নির্বাচন করতে চায় না, যারা নির্বাচনকে বন্ধ করতে চায়, তাদের কাজ।’
নির্বাচনের কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সুফিয়ান বলেন, ‘একসময় নির্বাচনটা ছিল একটা উৎসব। ঈদের মতো আনন্দ নিয়ে সবাই সপরিবারে ভোটকেন্দ্রে যেত। কিন্তু বিগত দিনে জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বিগত সরকার সেই ভোটের দিনকে আতঙ্কের দিনে পরিণত করেছিল, গুলি-বোমা, ককটেল এগুলো ফাটিয়ে। সেই কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আমরা নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চাই।’
মানুষের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রবণতা দেখার কথা জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখবেন, অন্যান্য ভোটের চেয়ে আরও বেশি মানুষ এবার ভোটকেন্দ্রে যাবে। উৎসমবুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আবার ঘরে ফিরতে পারবে। জনগণের প্রদত্ত ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবে, এটাই প্রত্যাশা করছি।’
নির্বাচিত হলে ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারি, যদি আমার দল সরকার গঠন করতে পারে এটাকে কোনোভাবে ক্ষমতা হিসেবে নিতে চাই না, পবিত্র আমানত হিসেবে নিতে চাই। মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা যেন সমর্থ হই। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখব। আজ ওয়াদা দিয়ে যেতে চাই, যদি সংসদে যাই আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করব। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি যদি জনগণ ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় তাহলে যে নিরাপদ বৈষম্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আমরা চাই, তাহলে সেই বাংলাদেশ পাব।’
‘আমার দলের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখানে আমার দলের অনেক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তারপরও দল আমাকে দিয়েছে, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমাদের সমস্ত নেতারা নিজেরা প্রার্থী হলে যেভাবে কষ্ট করতেন, সেভাবে উনারা ধানের শীষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’
জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন কিন্তু বিএনপি পিছিয়ে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ধানের শীষের প্রার্থী সুফিয়ান বলেন, ‘জামায়াত ও এনসিপির কেউ যদি ভোট চেয়ে থাকেন তাহলে তারা অপরাধ করেছেন। আমরা আচরণবিধি মেনে ২২ তারিখ থেকে প্রচারণায় যাব। তবে হ্যাঁ মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা একদম গভীরে। নির্বাচনে প্রচারণায় এখনো না গেলেও আমরা উনাদের চেয়ে এগিয়ে আছি।’
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামশুল আলম, নগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল।
এ সময় নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মোবিন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, ইসমাঈল বালি, নগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি উপস্থিত ছিলেন।