চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে ডিআইজি বাংলোর নিরাপত্তারক্ষী পুলিশ কনস্টেবলকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আদালত প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা হলেন— মো. জাবেদ, নুরুল আলম, সুমন মোল্লা, হারুন অর রশিদ, তপন চন্দ্র সরকার, মিন্টু দাশ, আরছাল ওরফে রাসেল, ফারুক ওরফে বুলেট ফারুক, মো. সোহেল এবং মো. বাবুল। সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের এই আসামিরা যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে তপন, আরছাল, সোহেল ও বাবুল ইতিমধ্যে কারাগারে থাকলেও বাকি ছয় আসামি পলাতক। পলাতকদের বিরুদ্ধে আদালত সাজামূলে পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালতের সহকারী মোহাম্মদ সাহেদ জানান, দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে খুনসহ ডাকাতির অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে। রায়ে আদালত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর সকালে নগরীর খুলশী থানার বাটালি পাহাড়ে ডিআইজি বাংলোর নিরাপত্তারক্ষী পুলিশ কনস্টেবল আবদুল কাইয়ুম ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই ঘটনায় অন্য তিন কনস্টেবল— আরিফুল ইসলাম, সাহাবউদ্দিন ও সালাউদ্দিন—গুরুতর আহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন জুয়েল ও ইউসুফ আলী খান নামে দুই যুবক ছিনতাইয়ের শিকার হন। ওই সময় পাহাড়ের কাছে ডিআইজি বাংলোর নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত পাঁচ পুলিশ কনস্টেবল চলাফেরা করছিলেন। আহতদের চিৎকারে তারা ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করে। পরে অন্যান্য ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, যার ফলে পুলিশের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় খুলশী থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।