Wednesday 14 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আইনজীবী হত্যা
চিন্ময়সহ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ১৯ জানুয়ারি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৫

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার ২২ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে ১৯ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এদিন অভিযোগ গঠন হলে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ মো. জাহিদুল হক এ আদেশ দিয়েছেন।

নিম্ন আদালত থেকে বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে আসার পর আজ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির প্রথম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন হাজতে থাকা ২৩ আসামির মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ ছাড়া বাকি ২২ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আলিফ হত্যা মামলার আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী সারাবাংলাকে জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে চিন্ময়কে কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়নি। হাজির করা ২২ আসামির উপস্থিতিতে আদালত মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। বিচারক নিজে প্রত্যেক আসামির নাম উল্লেখ করে হাজিরা নিশ্চিত করেন।

আদালত প্রাঙ্গণ। ছবি: সারাবাংলা

এ সময় কয়েকজন আসামি আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন এবং নিজেদের পক্ষে আইনজীবী ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের জন্য প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান। এছাড়া তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় বিচারক বলেন, ‘এই পর্যায়ে আদালত কাউকেই চূড়ান্ত আসামি হিসেবে বিবেচনা করছে না। সবাই সাধারণ অভিযুক্ত। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলেই কেবল আসামি হিসেবে গণ্য হবেন।’

এরপর আদালত আগামী ১৯ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির নির্দেশনা দেন। এদিন হাজতে থাকা সব আসামিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশনাও দেন আদালত।

এদিকে আদালতে মামলার কার্যক্রম চলাকালে আসামির স্বজনরা আদালত প্রাঙ্গনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। পরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তারসহ জ্যেষ্ঠ্য আইনজীবীরা গিয়ে তাদের আদালত ন্যায়বিচার করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকে আদালতের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক কড়াকড়ি দেখা যায়।

নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি খুন হন।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক ও সনাতনী জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে ত্রাস সৃষ্টি করে চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিনঘন্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে তারা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে নগরীর লালদিঘীর পাড় থেকে কোতোয়ালী এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত প্রাঙ্গনের অদূরে নগরীর বাণ্ডেল সেবক কলোনির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এরপর ২০২৫ সালের ১ জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তবে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানিতে আদালত মামলা থেকে একজন আসামির অব্যাহতির জন্য তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশ নাকচ করেন। এর ফলে ওই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯ জনে।

চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।

মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক আছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর