Wednesday 14 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রামে শতবর্ষী শুক্লাম্বর দীঘির মেলায় লাখো মানুষের ঢল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৮ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৮

চট্টগ্রামে শতবর্ষী শুক্লাম্বর দীঘির মেলায় লাখো মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো: পৌষসংক্রান্তিতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় শতবর্ষী এক গ্রামীণ মেলায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ পূজাকে ঘিরে এ মেলার আয়োজন হলেও শত বছর ধরে এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সম্মিলন ঘটে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পৌষ মাসের শেষদিনে প্রতিবছরের মতো চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা গ্রামের শুক্লাম্বর দীঘির পাড়ে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। দিনব্যাপী এ গ্রামীণ মেলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঐতিহ্যবাহী শুক্লাম্বর দীঘির প্রাচীন পূণ্যস্নান ও বার্ষিক মেলা’।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মনোবাসনা পূরণের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে সেখানে সমবেত হন। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে লাখ লাখ পূণ্যার্থী উপস্থিত হয় প্রতিবছর। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এবারও তারা শুক্লাম্বর দীঘিতে পূণ্যস্নানে মেতে ওঠেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দীঘির পাড়ে চারপাশে বিভিন্ন ধরনের বেতের তৈরি টুকরি থেকে শুরু করে বড় ঝুড়ি, চালুনি, কুলা, মোড়া, দা-বটি-ছোরা, যাঁতা, মাটির ঘটি-বাটিসহ নানা পণ্যের পসরা বসে মেলায়। এছাড়া, শীতের সবজি, মানকচু, শাপলা মাছ, ইলিশ, দেশি পুকুরের মাছ, চটপটি, বিনি ধানের খই, যব ধানের খই, বাতাসা, বাদামের টফি, নিমকি বিস্কুট, নকুল দানা, কদমা, গজা, নারকেলের চিড়া ছাড়াও পাওয়া যায় আরও অনেক কিছু।

জানতে চাইলে শুক্লাম্বর দিঘী উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হারাধন দেব সারাবাংলাকে বলেন, ‘শুধুমাত্র পৌষ সংক্রান্তিতে নয়, সারাবছর বিভিন্ন মানত পূরণের লক্ষ্যে দীঘিতে দুধ উৎসর্গ করেন পূণ্যার্থীরা। ছাগল ও কবুতর, ফল-ফলাদি দেন তারা। তবে বছরের অন্যান্যদিনের চেয়ে পৌষ সংক্রান্তির মেলায় বেশি সমাগম ঘটে। এবারও লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে।’

কমিটির সহ-সভাপতি অরুপ রতন চক্রবর্তী বলেন, ‘উপমহাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম তীর্থস্থান এই শুক্লাম্বর দিঘীর মেলা। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নয়, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ আসেন এ মেলায়।, ঐতিহ্যবাহী মেলাটি সুশৃঙ্খলভাবে উপজেলা প্রশাসন ও চন্দনাইশ থানা পুলিশসহ সকলের সহযোগিতায় সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কথিত আছে, প্রায় ৮০০ বছর আগে শ্রী শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য্য নামে এক সাধক ভারতের নদীয়া থেকে শঙ্খ নদীতে জলপথে চন্দনাইশের বাইনজুরী গ্রামে আসেন। তিনি নিজে শঙ্খের প্রবাহমূলে একটি অশ্বত্থের চারা রোপণ করে সেখানে শক্তির আরাধনা শুরু করেন। কঠোর আরাধনায় তিনি ত্রিপুরা দেবীর কৃপা লাভ করে সেই অশ্বত্থমূলেই সিদ্ধি লাভ করেন। তিনি নিজেই সেখানে খনন করেন দীঘি, কালক্রমে যা শুক্লাম্বর দীঘি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর