চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে এক শিশু পড়ে যাবার তথ্য পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তবে শিশুটি জীবিত আছে কি না সেটি তারা নিশ্চিত নন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার শিকার শিশুটির নাম মিসবাহ। বয়স আনুমানিক ৪ বছর বলে ওই গ্রামের বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর তার বাবা সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন সাংবাদিকদের জানান, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে একদল শিশু ওই গর্তের অদূরে খেলছিল। এ সময় চেঁচামেচি শুনে আশপাশে থাকা লোকজন সেখানে যান। তখন শিশুরা জানায়, মিসবাহ গর্তের মধ্যে পড়ে গেছে।
স্থানীয়রা বৈদ্যুতিক টর্চলাইট ব্যবহার করে সুড়ঙ্গ আকৃতির গর্তটির ভেতরে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করেন। তবে গর্তটি গভীর হওয়ায় কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, তারা গর্তের ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ শুনেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয়দের কেউ কেউ গর্তের ভেতরে গাছের লম্বা ডাল ফেলে শিশুটিকে তা ধরে রাখার জন্য বলছেন।
এদিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাউজান ও কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। তারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন। একইসঙ্গে রাউজান থানা পুলিশের টিমও সেখানে উপস্থিত আছে। ভিডিওতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে পুলিশকে।
ঘটনাস্থলে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান স্থানীয়দের বরাতে সারাবাংলাকে জানান, খেলতে গিয়ে শিশুটি গভীর নলকূপের জন্য খনন করা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীর একটি গর্তে পড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেছে।
‘ওপর থেকে গর্তের ভেতর শিশুটিকে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বলেছেন, তারা আগে কান্নার আওয়াজ শুনেছেন। শিশুটি জীবিত আছে কি না সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তবে আমরা কৃত্রিমভাবে গর্তে অক্সিজেন প্রবেশের ব্যবস্থা চালু করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় ভেকু আনা হচ্ছে। গর্তের চারপাশের মাটি খনন করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হবে।’
এদিকে শিশুটির বাবা সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে আহাজারি করছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। শিশুটির স্বজনরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোর উপজেলায় নলকূপের গর্তে পড়ে যায় সাজিদ নামে এক শিশু। ফায়ার সার্ভিস টানা ৩২ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে।