চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের টেরিবাজারে ১২ তলা কে বি অর্কিড প্লাজায় কাঁচ ঘেরা ভবন হওয়ায় আগুন লাগার পর ধোঁয়া বের হতে পারেনি। আর একারণেই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে দু’জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নগরীর টেরিবাজারের বক্সির বিটের কাছে কে. বি. অর্কিড প্লাজা নামে ১২ তলা ওই ভবনের চতুর্থ তলায় একটি দোকানে আগুন লাগে।
পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখান থেকে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৩ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
সেখানে দুজনের মৃত্যু হয় বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশেক জানান। মৃত দুজন হলেন- মোহাম্মদ ইউনূস (৫২) ও সোলায়মান (২৮)। তাদের দুজনেরই বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়।
বেলা একটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেহেতু এটা গ্লাস বন্দি প্লাজা ধোঁয়াটা ঠিকমত বের হতে পারেনি। ধোঁয়ার কারণে কার্বনের পরিমাণ যখন বেড়ে যায় তখন শ্বাসকষ্ট হয়। কয়েকজনকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’
‘শুরুতে খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিটের চারটি গাড়ি আসে। পরে অন্য ইউনিট থেকেও গাড়ি আসে। ইতোমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আমরা সক্ষম হয়েছি। যেহেতু জনবহুল ও গিঞ্জি এলাকায় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, তাই এখানে কাজ করতে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘টেরি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে দুর্ঘটনায় দু’জনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। এদের শরীরের বাইরের অংশে কোনো বার্ন নেই। কিন্তু তাদের শ্বাসনালি পুরোটা পুড়ে গেছে। আরেকজন আহত অবস্থায় এসেছেন। তিনি বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি তা তদন্ত সাপেক্ষে বলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা জানান, ভবনের চারতলায় ওয়েস্টার্ন টেইলার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বেলা ১১টার দিকে আগুন নেভায়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক অতীশ চাকমা সারাবাংলাকে বলেন, আগুনে অর্কিড প্লাজার চতুর্থ তলার টেইলারিং শপ, কাপড়ের দোকানসহ মোট সাতটি দোকান পুড়ে গেছে।
ওই বহুতল ভবনের বিভিন্ন তলায় ব্যাংকের শাখা, তৈরি পোশাকের দোকান, টেইলারিং শপ, কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান রয়েছে।
৩ টায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।