Friday 20 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঐতিহাসিক জিয়া জাদুঘর দ্রুত সংস্কারের তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ মার্চ ২০২৬ ১৬:০০

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম: ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দেওয়ার পর বন্ধ থাকা জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে অবিলম্বে এই ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হেরিটেজ’ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (২০ মার্চ) বেলা ১২টার পর চট্টগ্রামের পুরাতন সার্কিট হাউজে স্থাপিত ১১৩ বছর বয়সী জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন অর্থমন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “এটা প্রথমত একটা হেরিটেজ প্রপার্টি। অনেক পুরনো ও দৃষ্টিনন্দন একটি ঐতিহাসিক প্রপার্টি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, এটার মেনটেইনেন্সের অভাবে স্ট্রাকচারাল অনেকগুলো ইস্যু রয়ে গেছে- আমি যেটা দেখলাম।

বিজ্ঞাপন

“স্ট্রাকচারাল ইস্যুগুলো ইমিডেয়েট অ্যাড্রেস করা দরকার। কারণ এটা না করে রেনোভেশনের কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষকের এখানে মৃত্যু হয়েছে।তার জাদুঘর এখানে। তার স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা হয়েছে এখানে। তার জন্য এটার গুরুত্ব আরো বেশি।”

তিনি বলেন, “এটা আমাদের ধরে রাখা দরকার। দেশে খুব বেশি হেরিটেজ প্রপার্টি নেই। যেগুলো আছে সেগুলো আমদের মেনটেইন করে ধরে রাখা দরকার। বাংলাদেশের মানুষের আবেগের একটা ব্যপার আছে এখানে।

“এটার স্ট্রাকচারাল ইস্যুটা অনেক দেরি হয়ে গেছে। ইমিডিয়েটলি করা দরকার। সেটার পর বাকি পরিবর্তনগুলো এখানে নিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দায়িত্বে যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলব। এটার জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। জাদুঘরের বিষয়গুলো সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করতে হবে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটার স্ট্রাকচারাল অবস্থা এত খারাপ যে ভিজিটর আসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো সময় যদি একটা ভূমিকম্প হয় এটার একটা থ্রেট রয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য আগামীর ইতিহাসের জন্য এটা ধরে রাখতে হবে।

“সংস্কৃতি মন্ত্রী এই মাসের শেষে এখানে আসবেন। এটার একটা দ্রুত প্রতিকার আমাদের করতে হবে। এই জায়গাটা যথেষ্ট জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ। অবিলম্বে সংস্কার করে ধরে রাখতে হবে এবং জাদুঘরকে পরিপূর্ণতা দিতে হবে। দুটি কাজই আমরা একসঙ্গে করতে পারি।”

এর জরাজীর্ণ দশা কেন জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অতীতে এটার প্রতি কোন গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। যেভাবে স্বাধীনতার অনেক কিছু এবং অনেকের তো মূল্যায়ন হয়নি। আমাদের সকলকে মূল্যায়ন করতে হবে।”

২ ডিসেম্বরের ভূমিকম্পে এই ফাটল সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি স্থানে পলেস্তারার কিছু অংশ খসে পড়ে। এরপর জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে অর্থমন্ত্রী জানতে চান জিয়া স্মৃতি জাদুঘরটি ‘হেরিটেজ’ হিসেবে সংরক্ষিত কিনা। তারা নেতিবাচক জবাব দিলে অর্থমন্ত্রী তাদের জাদুঘরটিকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণার উদ্যোগ নিতে বলেন। পাশাপাশি ভবনের সামনের খোলা জায়গায় বৃক্ষরোপনের পরামর্শ দেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। ১৯৮১ সালের ৩ জুন সেসময়ের মন্ত্রিসভা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজকে ‘রাষ্ট্রপতি বীরউত্তম জিয়াউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর’ এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর