Friday 03 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত হচ্ছে প্রবর্তক মোড় এলাকা: মেয়র শাহাদাত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ এপ্রিল ২০২৬ ২০:০৪

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রবর্তক মোড়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা শিগগিরই জলাবদ্ধতামুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় হিজড়া খাল সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান। এ সময় মেয়র দ্রুত সময়ের মধ্যে খালের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

মেয়র বলেন, ‘এ বছর বর্ষা মৌসুমে নগরীর সামগ্রিক জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে এলেও কিছু এলাকায় পানি জমেছিল। আমি নিজে পানিতে নেমে নালা পরিষ্কার করেছি এবং সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করেছি। তখনই বুঝেছি, সাময়িক নয়—স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের অধীনে ৩৬টি খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে হিজড়া খাল খনন, সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ চলছে। খালটি গোল পাহা-মেহেদীবাগ এলাকা থেকে শুরু হয়ে কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, দামপাড়া, বাকলিয়া, চকবাজার ও কাপাসগোলা হয়ে ফুলতলী-চাক্তাই খালে গিয়ে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিন দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে খালটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল।

মেয়র বলেন, ‘খালটির প্রকৃত প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট হলেও দখলের কারণে অনেক জায়গায় তা ১২-১৫ ফুটে নেমে এসেছে। আরএস, পিএস ও বিএস ম্যাপ অনুযায়ী খালকে তার মূল প্রস্থে ফিরিয়ে আনতেই এই সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য কিছু স্থাপনা আংশিক অপসারণ করতে হবে, যা বৃহত্তর জনস্বার্থে জরুরি।‘

তিনি আরও বলেন, ‘খাল খননের সময় কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় সাময়িকভাবে পানি জমে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। আগামী দুই মাস কিছুটা কষ্ট হলেও পরবর্তীতে এই এলাকা স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত হবে।’

তিনি জানান, হিজড়া খাল ও জামালখান খাল—এই দুটি খাল নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জামালখান খালের সংস্কার কাজও একযোগে চলছে এবং তা দ্রুত শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

মশার উপদ্রব প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারভাবে চলবে। কোনো এলাকায় ওষুধ ছিটানো না হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সচিব বা সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, নগরকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ড্রেন উন্নয়ন, আধুনিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস), দখলমুক্ত ফুটপাত এবং পুনর্বাসনমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাল সংস্কারের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতায় নগরবাসীকে কিছুটা ভোগান্তির মুখে পড়তে হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পাইপ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর