Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ মে ২০২৬ ২২:৫৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রাম: কোরবানির পশুর চামড়ার অব্যবস্থাপনার কারণে যাতে নগরীর পরিবেশ নষ্ট না হয় এবং কোরবানিদাতারা ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোন ধরনের অরাজকতা চলবেনা।

রোববার (১৭মে) চসিক নগরভবনে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া এনে কৃত্রিমভাবে দাম কমানোর চেষ্টা করে। আবার কিছু খণ্ডকালীন বা মৌসুমি ব্যবসায়ী একদিনের জন্য ব্যবসায় নেমে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে থাকা চামড়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, যেকোনোভাবে শহরটাকে ক্লিন রাখা। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণ না করা গেলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

ডা. শাহাদাত বলেন, গ‘ত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘খণ্ডকালীন ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া রাস্তায় ফেলে না দেয়, সেজন্য আপনারা সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিন। এতে পরিবেশও রক্ষা পাবে, নগরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।’

সভায় চামড়া ব্যবসায়ীরা লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ট্রেনারি মালিকের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা কোটি কোটি টাকা পরিশোধ করার এবং কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যাতে সক্ষমতার বাহিরে চামড়া সংগ্রহ না করে সে ব্যাপারে সহযোগিতা চান।

সভায় কুরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ মজুদ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আড়তদার সমিতিকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। লবণের মূল্য সহনীয় রাখা ও উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতে বিসিককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও পশুর চামড়া ছিলানো এবং সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে প্রচারকার্য চালানোর জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়।

সভায় আড়তদার ব্যতীত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে সক্ষমতার অধিক চামড়া সংগ্রহ না করার জন্য যোগাযোগক্রমে পরামর্শ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। সন্নিহিত জেলা ও উপজেলা থেকে ঈদের দিন ও পরবর্তী ২ দিন যাতে মহানগরীতে কুরবানি পশুর চামড়া প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে চেকপোস্ট বসানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে যথাক্রমে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম ও ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জকে অনুরোধ করা হয়।

বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে চামড়া ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও বাহিরের অতিরিক্ত চামড়া নগরীতে প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামকে অনুরোধ করা হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি সম্রাট মোহাম্মদ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, উপদেষ্টা মোরশেদুল আলমসহ চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

সারাবাংলা/এসএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর