Saturday 30 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জনগণকে সঙ্গে নিয়েই শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হবে: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ মে ২০২৬ ১৮:১৬

বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম: জনগণকে সঙ্গে নিয়েই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী মোড়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুঃস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থেকে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আজ এমন একটি স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই সার্কিট হাউসেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে হত্যা করেও তার আদর্শ ও দর্শনকে মুছে ফেলা যায়নি। তিনি বাংলাদেশে একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে তার আদর্শ ধারণ করতে হবে এবং জনগণের পাশে থাকতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে, জনগণই দলের মূল শক্তি। তাদের স্বার্থ, চাহিদা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যাদের জন্য আমরা রাজনীতি করি, সেই সাধারণ মানুষকে কখনো ভুলে গেলে চলবে না। তাদের সুখ-দুঃখ আমাদের ধারণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এই মানুষগুলোকে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তাদের পাশে থাকতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই আমরা একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শহীদ জিয়া ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখ সমরে তার বীরোচিত অংশগ্রহণ জাতিকে স্বাধীনতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী এক ক্রান্তিকালে যখন জাতি দিশেহারা, ঠিক তখনই তিনি দেশের হাল ধরেছিলেন। তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি আজ দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। তার শাসনামলে দেশে অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। পোশাক শিল্পকে বিকশিত করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছিলেন। তার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দেশের আপামর জনসাধারণকে এক নতুন পরিচয়ে পরিচিত করেছিল।’

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান অতিথি ও সভাপতি উপস্থিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. আজিজ, শাহ আলম, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসকান্দার মির্জা।