চট্টগ্রাম ব্যুরো: ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর আদালতে হাজিরা নিয়ে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ নিয়ে ওই মামলার ২৩ জন আসামি গ্রেফতার হলো।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে নগরীর কোতোয়ালী থানার লালদিঘীর পাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার শ্রী গনেশ (১৯) নগরীর কোতোয়ালি থানার সেবক কলোনির শেরিপ দাশের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক গণেশ সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭ এর একটি টিম তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গণেশ আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।
নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি খুন হন।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক ও সনাতনী জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে ত্রাস সৃষ্টি করে চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিনঘন্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে তারা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে নগরীর লালদিঘীর পাড় থেকে কোতোয়ালী এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত প্রাঙ্গনের অদূরে নগরীর বাণ্ডেল সেবক কলোনির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
এরপর ২০২৫ সালের ১ জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তবে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানিতে আদালত মামলা থেকে একজন আসামির অব্যাহতির জন্য তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশ নাকচ করেন। এর ফলে ওই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯ জনে।
চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।
মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক আছেন।