Tuesday 13 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পশ্চিম রাজাবাজারে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে খুন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৪ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫০

জামায়াত নেতা আনোয়ারুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হয়েছেন জামায়াত নেতা আনোয়ারুল্লাহ। ভোররাতে বাসার গ্রিল কেটে দুই যুবক ভেতরে ঢুকে তাকে খুন করে। খুনের পর তারা আট ভরি সোনা ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, এটি নিছক চুরি নয়, একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। আনোয়ারুল্লাহ জামায়াতের পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহসভাপতি ও রুকন। তার মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামী প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দু’জন ব্যক্তি চিকিৎসক আনোয়ারুল্লাহর বাসায় প্রবেশ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের বের হতে দেখা যায়। যে গ্রিল কেটে তারা প্রবেশ করেছে, সেটিই ছিল মূল প্রবেশপথ। জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তারা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বাসার ভেতরে অবস্থান করে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বাসা ছাড়ে। ঘটনার পর আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পাশের বাড়ির একজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদেরও তো অনেক ব্যাপার-স্যাপার আছে। এভাবে যদি ঘটনা ঘটে, তাহলে তো যেকোনো কিছুই হতে পারে।

রাজাবাজারের ওই বাসার দোতলায় স্ত্রীসহ বসবাস করতেন আনোয়ারুল্লাহ। পরিবার জানায়, খুনিরা ভেতরে ঢুকে আনোয়ারুল্লাহ ও তার স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে তাকে খুন করে। এরপর তারা আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নেয়। পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি লাফ দিয়ে উঠে গেটের সামনে গিয়ে দেখি মানুষ জড়ো হয়েছে, পুলিশও আছে। পুলিশ বলছিল, এখানে ঢোকা যাবে না।’

নিহতের ভাতিজা বলেন, “ওনাকে মারার সময় তারা বলে, ‘তোকে এখন মেরে ফেলব, কালেমা পড়।’ তখন ফুফা বলেন, ‘আমি কালেমা জানি, আমি নিজেই পড়তে পারব।’ এরপর তাকে সামান্য পানি খেতে দেয়। একেবারে মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বের হয়ে যায়।”

হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নিহত আনোয়ারুল্লাহ। এ ঘটনায় তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার একজন রাজনৈতিক সহকর্মী বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, এটিকে নিঃসন্দেহে একটি হত্যাকাণ্ড বলা যায়। আরেক বাসিন্দা বলেন, গ্রিল কেটে ঢুকে যাচ্ছে, অথচ সরকার, প্রশাসন বা এলাকাবাসী কেউই টের পাচ্ছে না।’

পুলিশ জানায়, এটি চুরি নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা তদন্তে উঠে আসবে।

ডিএমপির ডিবি (মিডিয়া) তালেবুর রহমান এদিন বিকেলে জানান, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, নিহত আনোয়ারুল্লাহ এলাকায় একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর