রাজশাহী: বিএনপি নেতা কর্তৃক ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ হাবিবা বেগমকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় কাটাখালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এখনও ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকায় ওই নারী ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তারেক রহমান ও পুলিশের আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন।
অভিযুক্ত বিনএপি নেতা রজব আলী পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোটগ্রহণ চলাকালে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভোটারদের সাথে কথা বলা নিয়ে তর্কে জড়ান তারা। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হাবিবা বেগমকে সজোরে কয়েকটি থাপ্পড় দেন ওই নেতা। এ সময় উপস্থিত জনতা ওই নারীকে দুই সন্তানসহ নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে অবস্থা গুরুতর দেখে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ওই দিনেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ জানান তিনি। তবে থানায় মামলা দিতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাকে মারধর করার পর ওইদিনই আমি কাটাখালি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। আমি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও অভিযোগ দিয়েছি, তারাও গুরুত্ব দেয়নি।’
ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তারেক রহমান এবং আইজিপির কাছে ‘নির্বাচনি সহিংসতা, হত্যাচেষ্টা, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জরুরী ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন’ শিরোনামে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন তিনি। এতে ঘটনার বিবরণসহ রাজশাহী-৩ আসনের ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়াও, এ হামলার ঘটনায় জড়িত বিএনপি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজনৈতিক অবস্থান থেকে প্রশাসনের ওপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং অবিলম্বে FIR গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্বাচনকালীন সন্ত্রাস হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলকে নির্দেশ প্রদান করার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, এমন বৈষম্য চলতে থাকলে নারীরা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসবে কিনা শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে নানাভাবে হেয় এবং হয়রানি করা হয়েছে। এগুলোর সুরাহা না হলে রাজনীতি করার স্পৃহা বেঁচে থাকবে না। আগামীতে নারীরা রাজনীতিতে আসবে না। আমি আইনিভাবে লড়ে যাব। আগামীতে নারীদের রাজনীতিতে যেন প্রতিবন্ধকতা না আসে, সে জন্য লড়ব। এর সুষ্ঠু বিচার হতে হবে।’
এ বিষয়ে জানতে কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে কথা হয় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ওসি থানার বাইরে ব্যস্ত ছিলেন, এমন সময়ে তিনি (অভিযোগকারী নারী) থানাতে যাওয়ায় ওসিকে পাননি। তাছাড়া, ওসির কর্মকান্ড নিয়ে অভিযোগ থাকলে তিনি বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত আসতে পারতেন, তবে আমার জানামতে তিনি আসেননি।’