Sunday 01 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়াবিবাদের জেরে হত্যার পর ৭ টুকরো করা হয়: পুলিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ মার্চ ২০২৬ ১৪:০২ | আপডেট: ১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩৪

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।

ঢাকা: রাজধানীর পল্টন এলাকায় মানুষের কাটা হাত, পা, মস্তক ও ড্রাম ভর্তি দেহের অংশবিশেষ উদ্ধারের উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় শাহীন (২১) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূলত অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়াবিবাদের জেরে নিহত ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর ৭ টুকরো করে তারই রুমমেট শাহীন।

রোববার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (মতিঝিল বিভাগ) হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ে চাকরি করত এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করত।

বিজ্ঞাপন

ডিসি মতিঝিল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি যে শাহিন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খণ্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসার জন্য বলে কিন্তু শাহিন তাকে বলেছে তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না। তারা জসিমুদ্দিন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায়। সিগারেট নিয়ে আসার পরে আবার তাকে নানরুটি এবং কাবাব আনার জন্য পাঠায়। এই যে কাবাব এবং নানরুটি নিয়ে আসলেও কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে ওবায়দুল একাই খায়। রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিল, যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিল তাই সে বিরক্ত হচ্ছিল। এক পর্যায়ে শোয়ার চেষ্টা করছিল ঘুমানোর চেষ্টা করছিল তখন ফোন আস্তে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহিনকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ওই রাতে একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড়ে এবং গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য এটাকে বিভিন্ন অংশে খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা, আর কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন একটা এলাকাতে মাথাটা ফেলেছিল। মতিঝিলে কমলাপুরের ওখানে ময়লা বোঝাই কনটেইনারে ড্রাম ভর্তি দেহ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে সে ফেলেছে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। একটি অংশ আমরা এরইমধ্যে পেয়েছি, আরেকটা অংশের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত আছে।

শাহীন হত্যা করেছে সেটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন প্রশ্নে তিনি বলেন, শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসি টিভির ফুটেজ পেয়েছি। এছাড়া সে নিজেও এই ঘটনার সম্পৃক্ততা শিকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুধু ঝগড়া বিবাদের জন্যই হত্যা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ অনৈতিক প্রস্তাব দিত। আর এই বিষয়টি নিতে পারত না শাহীন। অনেক সময় রাতে শাহিনের রুমের ওবায়দুল্লাহ চলে যেত, তখন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকিয়ে দিত।

হত্যাকাণ্ডের পর শাহিনের আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পর শাহীন স্বাভাবিকভাবেই চাকরি করত। সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। শাহীনকে হিরাঝিল হোটেল থেকে আমরা গ্রেফতার করি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সারাবাংলা/এমএইচ/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর