Sunday 01 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘ভাই কী এমন অপরাধ করেছে যে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে ফেলেছে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ মার্চ ২০২৬ ১৭:১২

নিহত ওবায়দুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ‘আমার ভাই কী এমন অপরাধ করেছে যে, তাকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। আমার ভাইকে যে হত্যা করেছে তার প্রকাশ্যে ফাঁসি চাই।’

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে এভাবেই ফাঁসির দাবি জানাচ্ছিলেন নিহত ওবায়দুল্লাহ’র ছোট ভাই আব্দুল জলিল।

আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার ভাই পুরানা পল্টনে গণস্বাস্থ্য হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং অফিসারের চাকরি করতেন। থাকতেন মতিঝিল কমলাপুর জসিম উদ্দিন রোডে একটি মেসে। তার সঙ্গে থাকতেন শাহিন নামের এক ব্যক্তি। জানতে পেরেছি ওই শাহিনই আমার ভাইকে হত্যার পর তার দেহ কয়েক টুকরা করে বিভিন্ন জাযগায় ফেলে দিয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার তাতারকান্দি গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল হামিদ মিয়া। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন ওবায়দুল্লাহ। কিন্তু বিয়ের পাঁচ মাস পরে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর আর বিয়েশাদি করেননি। নির্বাচনের সময় বাড়িতে গিয়েছিলেন। এর পর আর যায়নি। শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয়। এর পর শনিবার বেলা ১১টার দিকে শিবপুর থানার মাধ্যেমে জানতে পারি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার ভাইয়ের হাত-পা-মাথাসহ কয়েক টুকরা উদ্ধার করে পুলিশ।’

এ ঘটনায় রোববার (১ মার্চ) বেলা ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন ডিসি (মতিঝিল বিভাগ) হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, ‘রাজধানীর পল্টন এলাকায় মানুষের কাটা হাত, পা, মস্তক ও ড্রাম ভর্তি দেহের অংশবিশেষ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। মূলত অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়াবিবাদের জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর সাত টুকরো করে তারই রুমমেট শাহীন।’

মতিঝিল পুলিশের ডিসি বলেন, ‘নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ে চাকরি করতেন। আর শাহীন চাকরি করতেন হোটেল হিরাঝিলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি যে, শাহিন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় মরদেহের খণ্ডিত অংশ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে শাহীনকে সিগারেট নিয়ে আসার জন্য বলে। কিন্তু শাহীন তাকে বলে যে, তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই। আনতে পারবে না। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায়। সিগারেট নিয়ে আসার পরে আবার তাকে নানরুটি এবং কাবাব আনার জন্য পাঠায়। কাবাব এবং নানরুটি নিয়ে আসলেও ওবায়দুল্লাহ তাকে না দিয়ে একাই খায়।’

হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিল, শাহিন ক্লান্ত ছিল, তাই সে বিরক্ত হচ্ছিল। তখন ফোনে আস্তে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহিনকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ওই রাতে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করে। এ সময় শাহিন তার ঘাড়ে এবং গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহটি বিভিন্ন অংশে খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দু’টি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা, আর কমলাপুর রেল স্টেশনসংলগ্ন হতে আরও একটি পা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া, মতিঝিলে কমলাপুরের ময়লা বোঝাই কনটেইনারে মাথা ফেলে দেয়। তবে সেটা মাতুয়াইল ময়লার স্তূপে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন জানায়, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে নিচে ফেলেছে। সেখানে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। একটি অংশ আমরা এরই মধ্যে পেয়েছি। আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত আছে।’

ডিসি বলেন, ‘শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলছিল, সেই সিসি টিভির ফুটেজ পেয়েছি। যদিও শাহীন সে নিজেই এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা শিকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার পর শাহীন স্বাভাবিকভাবেই চাকরি করছিল। সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। শাহীনকে হিরাঝিল হোটেল থেকে আমার গ্রেফতার করি। সে জানিয়েছে শুধু ঝগড়া বিবাদের কারণেই নয়, মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাবও দিতেন। আর এই বিষয়টি নিতে পারত না শাহীন। অনেক সময় রাতে শাহিনের রুমের মধ্যে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত, তখন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকিয়ে দিত। এসবের জেরেই শাহীন ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে।’

সারাবাংলা/এসএসআর/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর