ঢাকা: ইস্টার্ন ব্যাংকের (ইবিএল) চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আট হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সিটি ব্যাংকের কাছে শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের ব্যাংক হিসাব, লেনদেন এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র তলব করেছে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক (ব্যাংক) ও অনুসন্ধান টিমের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান সই করা দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো চিঠিতে এসব তথ্য চাওয়া হয়। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ বিবরণীতে বলা হয়েছে, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি’র চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবে আট হাজার কোটি টাকা লেনদেন এবং এলসির মাধ্যমে জাহাজ ভাঙার নামে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে শেল কোম্পানী দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
যেসব নথিপত্র তলব করা হয়েছে- দুদকের চিঠিতে শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বরীন, মেয়ে জারা নামরীন এবং ছেলে জারান আলী চৌধুরীর নামে সিটি ব্যাংকে থাকা সব ধরনের হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, লেনদেন বিবরণী, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), টিআইএন এবং পাসপোর্টের কপি। এ ছাড়া, তাদের ব্যক্তিগত বা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট শাখার প্রস্তাব এবং প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের কপিও তলব করেছে কমিশন।
এদিকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে ও অনুসন্ধানে জাহাজ না এনেই টাকা চলে যাওয়ার যে তথ্য এসেছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। সিটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও শেল কোম্পানির বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হতে পারে।