Tuesday 10 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫২

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান নিয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, আমরা উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে পাইনি। তবে এলাকায় আমাদের ডমিনেশন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সেখানে অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নগরের খুলশী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এ কথা বলেন। তিনি জানান, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে দেশি-বিদেশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, র‍‍্যাব বিজিবি, এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট তিন হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। এছাড়াও ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র‍‍্যাব ও সিএমপি’র তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন।

ডিআইজি জানান, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা ও সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থানস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যৌথবাহিনী কর্তৃক তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক), পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ১৯টি সিসি ক্যামেরা, থ্রি-ডি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দু’টি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে, যা অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘ জঙ্গল সলিমপুরে নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট ও টহলের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হবে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এলাকায় কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সহায়তা পেত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সেখানে যারা বসবাস করছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর